কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ঘিরে আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড়! কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া রক্ষাকবচে সন্তুষ্ট নয় রাজ্য সরকার। এবার সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল রাজ্য। প্রশ্ন একটাই, একাধিক এফআইআরের ক্ষেত্রে অভিষেককে কি একসঙ্গে ‘ব্ল্যাঙ্কেট প্রোটেকশন’ দেওয়া যায়? হাই কোর্টের নির্দেশ ঘিরে এই আইনি টানাপড়েন এবার পৌঁছে গেল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে।
৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রক্ষাকবচ, তার আগেই সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য!
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ অগস্ট। সেদিন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনটি মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেন। নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ওই তিন মামলায় তাঁর (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে কোনও রকম জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। তবে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে। তদন্তকারী সংস্থাকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে।
কিন্তু হাই কোর্টের এই নির্দেশের বিরোধিতা করেছিল রাজ্য। এমনকী, নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশও চাওয়া হয়েছিল। সেই আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়ল রাজ্য সরকার। শুক্রবার শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দীপাবলির ছুটির পর আদালত খুললে মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
১৬টি এফআইআর, তিন মামলায় রক্ষাকবচ! রাজ্যের আপত্তি ঠিক কোথায়?
অভিষেকের (Abhishek Banerjee) দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১৬টি এফআইআরের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
এর মধ্যে ভবানীপুর, কালীতলা ও বিষ্ণুপুর থানার তিনটি মামলায় রক্ষাকবচ পেয়েছেন তিনি। তবে আদালত কোনও এফআইআর খারিজ করেনি। তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশকে বাধাও দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, রাজ্যের যুক্তি, অভিষেকের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি গুরুতর। কোনও ব্যক্তি একাধিক এফআইআরের ক্ষেত্রে একসঙ্গে এমন রক্ষাকবচ পেতে পারেন না। প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে আলাদা করে আইনি প্রতিকার চাওয়া উচিত। আগাম জামিনের মতো আইনি পথ খোলা থাকলেও কেন তিনি সেই পথে না গিয়ে রক্ষাকবচ চাইছেন, সেই প্রশ্নও তুলেছে রাজ্য।
শুভেন্দুর নজির বনাম অভিষেকের রক্ষাকবচ!
এই আইনি লড়াইয়ে উঠে এসেছে শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গও। এর আগে শুভেন্দুর ক্ষেত্রে হাই কোর্টের দেওয়া রক্ষাকবচের নজির তুলে ধরেছিলেন অভিষেকের আইনজীবী। ফলে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি আইনি মহলেও এই দুই মামলার তুলনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে আপাতত হাই কোর্টের নির্দেশ বহাল রয়েছে। আগামী ২৩ নভেম্বর কলকাতা হাই কোর্টে মামলার পরবর্তী শুনানির কথা রয়েছে। সেখানে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা পুলিশের। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের আবেদনের শুনানি হলে অভিষেকের (Abhishek Banerjee) রক্ষাকবচের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হতে পারে নতুন সমীকরণ।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন এখন একটাই, অভিষেকের জন্য একাধিক মামলায় একসঙ্গে আইনি সুরক্ষা কতটা যুক্তিসঙ্গত? রাজ্যের আপত্তিতে কি বদলাবে হাই কোর্টের নির্দেশ, নাকি বহাল থাকবে অভিষেকের (Abhisbek Banerjee) রক্ষাকবচ? নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকে।


