Aaj India Desk, উত্তরপ্রদেশ: অযোধ্যার রাম মন্দিরে (Ram Mandir) ভক্তদের অনুদানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, মন্দিরে জমা পড়া বিপুল পরিমাণ অনুদানের অর্থে বড়সড় আর্থিক অনিয়ম (Financial Corruption) হয়েছে। শুক্রবার এই মামলায় বড় পদক্ষেপ করে পুলিশ। মন্দির পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আটজনকে গ্রেফতার (Arrest) করা হয়। তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
এই ঘটনার পর নৈতিক দায় স্বীকার করে রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য—সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্ট সদস্য অনিল মিশ্র পদত্যাগ করেছেন বলে সূত্রের খবর। যদিও চম্পত রাই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মহন্ত নৃত্য গোপাল দাসকে লেখা চিঠিতে তিনি জানান, তদন্ত যাতে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে হয় এবং রাম মন্দিরের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে, সেই কারণেই তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই ঘটনার সূত্রপাত হয় ট্রাস্টের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে। সেই অভিযোগের পর উত্তরপ্রদেশ পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করে। মামলায় চম্পত রাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নুসহ মোট আটজনের নাম রয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব, রমাশঙ্কর মিশ্র, মণীশ যাদব এবং করুণেশ পাণ্ডেও রয়েছেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের কয়েকজনের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্কও রয়েছে।
এদিকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়েছেন, বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, জালিয়াতি, চুরি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ব্যাঙ্কের নথি, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ এবং বিভিন্ন সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অযোধ্যার সরকারি আইনজীবী কে সি বর্মা জানান, ধৃত আটজনকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের সোমবার পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছেন। সাতজনের বাড়ি থেকে মোট ৭৯ লক্ষ ৮৫ হাজার ৮৯৩ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। শুধুমাত্র সুভাষ শ্রীবাস্তবের বাড়ি থেকে কোনও নগদ অর্থ পাওয়া যায়নি। এখন পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অনুদানের টাকা কোথায় এবং কীভাবে সরানো হয়েছে, তার পূর্ণ তথ্য জানার চেষ্টা করবে।
এই বিতর্ক প্রথম সামনে আসে গত ৭ জুন। সমাজবাদী পার্টির নেতা তেজ নারায়ণ ‘পবন’ পাণ্ডে অভিযোগ করেন, মন্দিরের দানবাক্স থেকে প্রায় ৫ থেকে সাড়ে ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এরপর ১৩ জুন ট্রাস্টের অনুরোধে উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে। ওই দল ১৫ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত অযোধ্যায় তদন্ত চালিয়ে দানবাক্স, টাকা গোনার ঘর, ভল্ট, হিসাবের নথি এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। প্রাথমিক রিপোর্টে অনুদানের নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, ট্রাস্টের হিসাব অনুযায়ী ১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে রাম মন্দির ট্রাস্টের তহবিলে মোট ৮২.৭৮ কোটি টাকা অনুদান জমা পড়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, এই বিপুল অর্থের একটি বড় অংশ তছরুপ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত এখনও চলছে এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পরই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে।


