Aaj India Desk, কলকাতা: বাড়ির বাইরে প্রতিদিন চেয়ার পেতে বসেন তিনি। আপাতদৃষ্টিতে আর পাঁচজন প্রবীণের (Old People) মতোই পাড়ার হাওয়া-বাতাস উপভোগ করেন। কখনও প্রতিবেশীর সঙ্গে দু’দণ্ড কথা, কখনও আশপাশে চোখ রাখা। কিন্তু এই সাধারণ দৃশ্যের আড়ালেই রয়েছে এক অদ্ভুত ‘ব্যবসা’! হাতে থাকা নোটবুকটিই তাঁর আসল অস্ত্র। পাড়ার কে কার সঙ্গে ঝামেলায় জড়ালেন, কার সম্পর্কে কী কানাঘুষো চলছে সবকিছুর হিসেব লিখে রাখেন তিনি। পরে সেই তথ্যই বিক্রি করেন কৌতূহলী গ্রাহকদের কাছে!
কোলোম্বিয়ার কুইন্দিও ডিপার্টমেন্টের আর্মেনিয়া শহরের ৬৭ বছরের মিরিয়মের দাবি, গসিপ করাকেই তিনি পেশায় পরিণত করেছেন। সম্পর্কের টানাপড়েন, পরকীয়া, ঝগড়া থেকে শুরু করে পাড়ার নিত্যদিনের ঘটনা সবই তাঁর ‘সংবাদভাণ্ডারে’ জায়গা পায় যদিও ছড়িয়ে পরা এই বার্তা Aaj India যাচার করেনি।
‘গসিপ’-এরও রয়েছে আলাদা দাম!
মিরিয়ম নিজেকে স্প্যানিশ ভাষায় ‘চিসমোসা’ অর্থাৎ পরচর্চাকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এই লেডি দাবি, ছোটখাটো খবরের জন্য কয়েক হাজার পেসো নেন তিনি। তবে খবর যত সংবেদনশীল, দামও তত বেশি। তাঁর কথায়, একটি পরকীয়ার ঘটনা সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সর্বোচ্চ প্রায় ৭ লক্ষ কলম্বিয়ান পেসো আয় করেছেন তিনি।
তবে শুধু মুখের কথায় ভরসা করেন না মিরিয়ম। দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে বসে মানুষের কথাবার্তা শোনেন, আশপাশের গতিবিধি লক্ষ্য করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নোটবুকে লিখে রাখেন। তাঁর দাবি, এই নোটই তাঁকে তথ্য মনে রাখতে এবং গ্রাহকদের কাছে নিজের দাবির ‘প্রমাণ’ দেখাতে সাহায্য করে। সাক্ষাৎকারে প্রতিবেশীদের ছবি ও বিভিন্ন তথ্য লেখা নোটবুকও দেখিয়েছেন তিনি।
গসিপের টাকায় কিনেছেন দুই বাড়ি!
মিরিয়মের দাবি, এই অভিনব ব্যবসা থেকে এতটাই আয় হয়েছে যে দৈনন্দিন খরচ চালানোর পাশাপাশি তিনি দুটি বাড়িও কিনেছেন। তাঁর কথায়, প্রমাণ ছাড়া তিনি কোনও তথ্য ছড়ান না। এই কারণেই এলাকায় তাঁর পরিচিতি হয়েছে ‘গসিপ কুইন’ নামে।
তবে সবাই যে তাঁর কাজে খুশি, তা নয়। প্রতিবেশীদের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলানোর অভিযোগ তুলেছেন। মিরিয়মের অবশ্য পাল্টা দাবি, একসময় যারা তাঁর গসিপে বিরক্ত হতেন, তাঁরাই এখন নানা খবর জানতে তাঁর কাছে ফিরে আসেন।
আর এখানেই গল্পের সবচেয়ে মজার দিক মিরিয়মের দাবি, তাঁর এই ‘ব্যবসার মডেল’ নকল করার চেষ্টাও করেছেন অনেকে। তাঁর নিজের ভাষায়, “গসিপই আমার জীবন, এটি আমার রক্তে মিশে আছে।”


