Aaj India Desk, কলকাতা : বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) স্বায়ত্তশাসন ও শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বদলি সংক্রান্ত বিল ঘিরে বিধানসভায় তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিলের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কটাক্ষ, “সমস্যা হলে চাকরি ছেড়ে কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে নিন। গণশক্তি বিক্রি করুন।” একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের নতুন ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে গিয়ে পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সাহায্য করার বার্তাও দেন তিনি।
যাদবপুর প্রসঙ্গে সরব মুখ্যমন্ত্রী
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) শিক্ষক সংগঠন এবং বামপন্থী মনোভাবাপন্ন অধ্যাপকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও অতীতের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। তিনি বলেন, “একশ্রেণির অধ্যাপক বামপন্থীদের জামা গায়ে দিয়ে আছেন। শারদোৎসব লিখে, দুর্গাপুজো না লিখলে একটা স্টলও করতে দেব না।” একইসঙ্গে সিপিএম নেতাদের পরিবারের সদস্যদের চাকরি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, শুধু গত ১৫ বছর নয়, ৩৪ বছরের শাসনকালের হিসাবও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক পাঠানোর পক্ষে সওয়াল
বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) বদলি সংক্রান্ত বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, নতুন তৈরি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করতেই এই ব্যবস্থা কাজে লাগানো হবে। তাঁর বক্তব্য, প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অভিজ্ঞ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে সেখানে শিক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে কাজে লাগানো যেতে পারে।
বামপন্থী মতাদর্শের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা লেনিন, মার্ক্স, চে গুয়েভারা, সমাজতন্ত্র কিংবা শ্রমিক-কৃষকের অধিকারের মতো বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কথা বলেন, তাঁদের মেধা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজে লাগাতে আপত্তি থাকা উচিত নয়।
‘লাল ঝান্ডার বদলে লাইব্রেরি-ল্যাবরেটরি তৈরি করুন’
বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষাকর্মীর আধিক্য এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, যেখানে পর্যাপ্ত শিক্ষাকর্মী নেই, সেখানে গিয়ে লাইব্রেরি ও ল্যাবরেটরি তৈরিতে সহযোগিতা করা উচিত। তিনি বলেন, “লাল ঝান্ডা কাঁধে তুলে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ না ডেকে তাঁরা বরং যেখানে শিক্ষাকর্মী নেই সেখানে গিয়ে লাইব্রেরি ও ল্যাবরেটরি তৈরি করতে সাহায্য করুন।”
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ চত্বরে রাজনৈতিক মিছিল নিয়েও কড়া অবস্থান জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে পুলিশের অনুমতি নিয়ে মিছিল করতে হবে এবং মিছিলে জাতীয় পতাকা রাখতে হবে। ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান এবং পহেলগাম ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো ঘটনার পর ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’ ধরনের অবস্থান নিয়েও তিনি আপত্তি জানান। তাঁর দাবি, দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেবে।


