Aaj India Desk, কলকাতা : দুর্গাপুজোর মণ্ডপে বামপন্থী ও মার্কসীয় সাহিত্যের বইয়ের স্টল (CPIM Book Stall) বসানো এবং ‘শারদোৎসব’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরই পাল্টা সুর চড়াল বাম শিবির। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের এবার কড়া জবাব দিলেন সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ এবং এসএফআই নেতা সৃজন ভট্টাচার্য।
কী বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী?
বাঙালি মাত্রেই দুর্গাপুজোকে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবেই দেখে এসেছে। বাম আমলে ‘দুর্গাপুজো’-র পরিবর্তে ‘শারদোৎসব’ শব্দ ব্যবহারের চল বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও প্রকাশনায় দেখা যেত। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই এই শব্দচয়ন নিয়ে শাসকপক্ষের একাধিক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন। এবার সেই বিতর্ক তুলেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দুর্গাপুজোর মণ্ডপের বাইরে কমিউনিস্টদের বইয়ের স্টল (CPIM Book Stall) বসাতে গেলে অনুমোদনের ক্ষেত্রে ‘দুর্গাপুজো’ শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
পাল্টা জবাব বাম নেতৃত্বের
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে আপসের কোনও ইঙ্গিত দেয়নি সিপিএম। দলের নেতা শতরূপ ঘোষ সরাসরি বলেন, “আমাদের যা করার আছে করব, ওঁর যা করার আছে করে নিন।” অর্থাৎ বইয়ের স্টল (CPIM Book Stall) বা ‘শারদোৎসব’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে প্রশাসনিক কোনও নির্দেশ এলে তা মেনে নেওয়ার বিষয়ে বামেদের অবস্থান যে কঠোর, তাঁর বক্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্যও। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের মূল সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলি থেকে নজর ঘোরাতেই ধর্মীয় পরিচয় ও পুজোর নাম নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। সৃজনের বক্তব্য, “এসব কোনও ইস্যুই নয়।” তাঁর দাবি, গ্যাসের দাম, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা, গরিব মানুষের উচ্ছেদ এবং চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের মতো বিষয়গুলি নিয়ে সরকারের জবাব দেওয়া উচিত। এর পাশাপাশি সাহাবুদ্দিনের বাড়িতে গোমাংস খাওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। ওই অভিযোগ সত্যি না মিথ্যা, তা প্রকাশ্যে জানানোর দাবি করে সৃজন বলেন, তার পরেই তিনি অন্য বিষয় নিয়ে জবাব দেওয়ার কথা ভাববেন।
তবে দুর্গাপুজোর ঠিক আগেই বামেদের বইয়ের স্টল, ‘শারদোৎসব’ শব্দের ব্যবহার এবং সনাতন ধর্মের প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক ফের নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করছে। একদিকে প্রশাসনের কড়া বার্তা, অন্যদিকে বামেদের পাল্টা অবস্থানের কারণে পুজোর আগে বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


