29.3 C
Kolkata
Sunday, July 5, 2026
spot_img

পালানোর পথ বন্ধ! পুলিশের হাতে ‘মিনি ফিরোজ’

Aaj lndia Desk,কলকাতা: ফের পুলিশের জালে ‘মিনি ফিরোজ’ (Mini Firoz) । কলকাতার অপরাধ জগতের পরিচিত এই নামের সঙ্গে এবার গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মহম্মদ সাজিদও। শনিবার অস্ত্র আইনের একটি মামলার তদন্তে ডানকুনি টোলপ্লাজার কাছে অভিযান চালিয়ে দু’জনকে আটক করে কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, গাড়িতে করে অন্যত্র যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা। সেই সময়ই গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

কেন ফের গ্রেফতার?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৩ জুন তপসিয়া থানায় ফিরোজ ও সাজিদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে আসে তদন্তকারীদের। এরপর থেকেই দুই অভিযুক্তের গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত ডানকুনিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

৩৭টি মামলার অভিযুক্ত ফিরোজ

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ফিরোজের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের মামলা ছাড়াও খুনের চেষ্টা, হামলা, তোলাবাজি, দাঙ্গাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ৩৭টি ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন।

দিল্লি থেকে গ্রেফতার, পরে জামিন

গত বছরের সেপ্টেম্বরে আনন্দপুরের গুলশন কলোনিতে গুলি ও অশান্তির ঘটনার পর প্রথমবার শিরোনামে আসেন ‘মিনি ফিরোজ’। অভিযোগ ওঠে, সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে তাঁরও ভূমিকা ছিল। ঘটনার পর তিনি গা ঢাকা দেন। তদন্তে জানা যায়, দিল্লিতে আত্মগোপন করেছিলেন এবং সমাজমাধ্যমেও সক্রিয় ছিলেন। পরে কলকাতা পুলিশের বিশেষ দল দিল্লি থেকে ফিরোজ ও সাজিদকে গ্রেফতার করে। তবে আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান দু’জনেই।

জেরায় মিলতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

জামিনে মুক্তির পরও তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ জমা পড়ায় তদন্ত আরও জোরদার হয়। পুলিশ মনে করছে, হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অপরাধচক্রের নেপথ্যের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

আনন্দপুর থানার গুলশন কলোনি দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রকাশ্যে গুলি, বোমাবাজি ও গ্যাং সংঘর্ষের একাধিক ঘটনা অতীতে ঘটেছে। প্রাক্তন কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর মামলাতেও ফিরোজের নাম উঠে এসেছিল বলে অভিযোগ। এবার আদালতে তোলা হলে পুলিশ তাঁর হেফাজতের আবেদন করতে পারে। তদন্তকারীদের আশা, এই জেরার মাধ্যমে কলকাতার অপরাধচক্র সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসবে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন