Aaj lndia Desk , কলকাতা : “কা কে ভোট দিয়েছেন?”প্রশ্নটা শুনলেই যেন হঠাৎ মিউট বাটন চাপা পড়ে! একটু আগেও যিনি চায়ের কাপে ঝড় তুলছিলেন, তিনিই হঠাৎ ঠোঁটে তালা ঝুলিয়ে ফেলেন। এক মুখ হেঁসে বলেন, “এইটা আবার বলার নাকি!” আর সেখানেই থেমে যায় সব কথা।
আপনিও কি ভয় পান? “কা কে ভোট দিয়েছেন?” প্রশ্নটা শুনলেই কি হঠাৎ নেটওয়ার্ক চলে যায়? তাহলে শুনুন আপনি একা নন , আমাদের রাজ্যে প্রায় ৬০% মানুষই এড়িয়ে যায় এই প্রশ্নে ।
পশ্চিমবঙ্গের ভোট মানেই চমক , এই ধারণায় যেন আরও একবার উসকে দিলেন প্রদীপ গুপ্ত ( Pradeep Gupta)। তাঁর দাবি, রাজ্যের প্রায় ৬০% ভোটার কাকে ভোট দিয়েছেন তা বলতে চাইছেন না। এই নীরবতার পিছনে রয়েছে ভয়, এমনটাই মত তাঁর। Axis My India- এর প্রধানের বক্তব্য, বহু ভোটার মনে করছেন, যদি তারা নির্দিষ্ট কোনও দলের নাম বলেন, তাহলে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়াও এই আতঙ্ক বাড়াচ্ছে বলেই দাবি তাঁর।
কিন্তু এখানেই শুরু বিতর্কের। রাজনৈতিক মহলের একাংশ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন এক্সিট পোলের সম্ভাব্য ব্যর্থতার আগাম ড্যামেজ কন্ট্রোল? অর্থাৎ পরিস্থিতি আগে থেকে ম্যানেজ দেওয়ার চেষ্টা ?
অন্যদিকে, কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, বাংলার মতো সংবেদনশীল রাজ্যে ভোটারদের মধ্যে ভয় বা অনিশ্চয়তা থাকাটা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলে সাধারণ মানুষ অনেক সময় খোলাখুলি মত প্রকাশ করতে চান না। সুতরাং পরিস্থিতি এখন দাঁড়িয়েছে এমন এক জায়গায় যেখানে একদিকে ভয়ে নীরব ভোটার তত্ত্ব, অন্যদিকে ভুল ঢাকতে অজুহাত। এই দুইয়ের টানাপোড়েনে বাংলার ভোট পরবর্তী বিশ্লেষণ এখন থেকেই বেশ জটিল হয়ে উঠছে।


