কলকাতা: আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। তার আগে আজ ছিল শেষ ভোটের প্রচার। তাতেই বাংল্য আসেন স্মৃতি ইরানি (Smriti Irani)। প্রচারে এসে বরিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা তথা বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ ভোটের ময়দানে বিরোধী দলের এক নেতার প্রশংসা কেন?
বস্তুত, গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Forces) ভূমিকার প্রশংসা করেছিলেন প্রাক্তন লোকসভা সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সেই প্রসঙ্গ টেনেই সোমবার অধীর চৌধুরীর প্রশংসা করলেন বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি (Smriti Irani)। প্রথম দফার ভোটে হিংসা কম হওয়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করে স্মৃতি ইরানি বলেন, “ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশে ভোট দেওয়া নিশ্চিত করা মূলত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব।” তাঁর প্রশ্ন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে স্বাগত জানাচ্ছেন না?”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী আধাসেনার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।” সেই প্রেক্ষিতে স্মৃতি ইরানির (Smriti Irani) প্রশ্ন, যখন অন্য বিরোধী নেতারাও সন্তুষ্ট, তখন মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি কেন, বরং তাঁরই উচিত আধাসেনার ভূমিকা সমর্থন করা।
‘বাংলায় কি জঙ্গিরা থাকে’?
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে এই বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces) নিয়েই কটাক্ষ করেন আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। রবিবার কুণাল ঘোষের হয়ে বেলেঘাটায় প্রচার করছিলেন তিনি। সেখানেই সভামঞ্চ থেকে কেজরিওয়াল কটাক্ষ ছুঁড়ে বলেন, দে”শের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলায় আধাসেনা পাঠানো হচ্ছে কেন? আপনারা কি ভারতীয় নন, আপনারা কি জঙ্গি?”
তাঁর দাবি, এই নির্বাচন শুধু রাজ্য সরকার গঠনের নয়, বরং “দেশ ও গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই”। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতীয় জনতা পার্টি বাংলার ভোটে সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে এবং বিপুল কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces) মোতায়েনের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গণতন্ত্রের উৎসবে শাসক-বিরোধী খেলা জমে উঠেছে। এখন দেখার প্রথম দফার মত দ্বিতীয় দফাতেও মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন কি না। নজর এখন ২৯ এপ্রিল এবং তারপর ৪ মে তে।


