Aaj India Desk, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকারের (BJP Government) প্রথম বাজেটেই (First Budget) মিলল বড় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত। রাজ্যের লাভজনক সরকারি সংস্থা (Government Agency)-গুলিকে ধাপে ধাপে শেয়ার বাজারে (Stock Market) তালিকাভুক্ত (লিস্টেড) করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী ডঃ স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশের সময় তিনি জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংস্থাগুলির একটি অংশের শেয়ার সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে ছাড়া হবে। এর ফলে সরকার যেমন নতুন মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে, তেমনই সংস্থাগুলির আর্থিক ভিত্তিও আরও শক্তিশালী হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে এমন সরকারি সংস্থাগুলিকে বেছে নেওয়া হবে যেগুলি বর্তমানে লাভের মুখ দেখছে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ব্যবসার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে তাদের শেয়ার বাজারে আনা হবে। এর উদ্দেশ্য শুধু অর্থ সংগ্রহ নয়, বরং সংস্থাগুলির প্রকৃত আর্থিক মূল্য সামনে আনা এবং আরও পেশাদারভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি করা।
শেয়ার বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন। ‘দেকো সিকিওরিটিজ’-এর ডিরেক্টর আশিস নন্দীর মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সরকারি সংস্থাগুলি নিজেদের ব্যবসা আরও সম্প্রসারণের সুযোগ পাবে। যদিও কোন কোন সংস্থা প্রথমে তালিকাভুক্ত হবে বা কত শতাংশ শেয়ার বাজারে ছাড়া হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন সংস্থার শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু রাজ্যের নিজস্ব তালিকাভুক্ত সংস্থার সংখ্যা খুবই কম। তাই যদি সরকারি সংস্থাগুলি বাজারে আসে, তাহলে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও অনেকটাই বাড়বে। পাশাপাশি দেশের শিল্পমহলেও ইতিবাচক বার্তা যাবে যে পশ্চিমবঙ্গ আধুনিক অর্থনৈতিক নীতির দিকে এগোচ্ছে।
বেঙ্গল চেম্বারের আর্থিক ও কর সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারপার্সন বিবেক জালানের মতে, সরকারি সংস্থার বিলগ্নিকরণ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি অর্থনৈতিক পদ্ধতি। এই উদ্যোগ সফল হলে শুধু রাজ্যের অর্থনীতিই নয়, কলকাতাও ধীরে ধীরে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসতে পারে।
এদিন বাজেটে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা ১১৮ বছরের পুরনো ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ (CSE)-কে পুনরুজ্জীবিত করতে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক সহায়তা দেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে সরকারি সংস্থাগুলিকে শেয়ার বাজারে আনার উদ্যোগ এবং অন্যদিকে ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জকে ফের সক্রিয় করার পরিকল্পনা— এই দুই পদক্ষেপ মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়বে। এর ফলে শিল্প, কর্মসংস্থান এবং রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


