Aaj lndia Desk,পূর্ব মেদিনীপুর: তমলুকের প্রভাবশালী তৃণমূল কাউন্সিলর কানাইলাল দাসকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। যদিও ঠিক কোন অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা পুলিশের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এদিন ভোরে তমলুক পুরসভার ওই কাউন্সিলরের বাড়িতে একটি দল যায় এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আটক করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)র সভার দিনই। সেদিনই তাঁর ভাড়া নেওয়া একটি বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেই তল্লাশিতে যা উদ্ধার হয়, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পাওয়া যায় স্কুল পড়ুয়াদের পোশাক, পাশাপাশি শাড়ি। অন্য একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয় গুচ্ছ গুচ্ছ ত্রিপল ও ধুতি। এসব সামগ্রী কেন ওই ভাড়াবাড়িতে রাখা ছিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কানাইলাল দাস এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি একাধিক নার্সিংহোমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ। তমলুক এলাকায় অন্তত ১০ থেকে ১৫টি নার্সিংহোমের মালিকানা বা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল বলে স্থানীয় মহলে আলোচনা চলছে। এমনকি নার্সিংহোম অ্যাসোসিয়েশনের অলিখিত সভাপতি হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় সংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রেই তাঁর মতামতের উপর নির্ভর করত। এছাড়াও কয়েকদিন আগে এলাকায় এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান গ্রেফতারের যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশও এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ফলে পুরো ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


