Aaj India Desk, কলকাতা: বিধানসভায় ‘কালীঘাট তৃণমূল’ (Kalighat Trinomul) শিবিরের বিধায়কদের জন্য আলাদা বসার ঘর এবং অধিবেশনে নিজেদের বক্তব্য রাখার জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র সঙ্গে বৈঠকের পর এমনটাই জানান প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay) ও কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, নিজেদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি নিয়ে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সম্মান দিয়ে কথা শুনেছেন এবং বসার জায়গা, আলাদা ঘর ও নিরাপত্তা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিন বিধানসভার আসন বিন্যাসও ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কুণাল ঘোষের দাবি, প্রবীণতম বিধায়ক হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজের নির্ধারিত আসনেই ছিলেন। তবে সাধারণত বিরোধী দলনেতার জন্য যে আসন রাখা হয়, সেখানে বসানো হয়েছিল শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন ছিল কিছুটা দূরে।
নতুন এই ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়ে কুণাল ঘোষ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, এখন আর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য কাউকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না বা কারও অনুমতির প্রয়োজন হচ্ছে না। একইসঙ্গে তিনি বলেন, যাঁরা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তাঁদের কখনও নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না।
বৈঠকের সময়ই মুখ্যমন্ত্রী পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষকে ডেকে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়কদের জন্য দ্রুত একটি আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অধিবেশনে তাঁদের বক্তব্য রাখার জন্যও আলাদা সময় নির্ধারণের কথা বলেন। ফলে বৈঠকটি যে ইতিবাচক পরিবেশেই শেষ হয়েছে, তা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষ দু’জনেই জানিয়েছেন। এদিকে কুণাল ঘোষ বলেন, নতুন সরকারকে কাজ করার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া উচিত। তবে হকার উচ্ছেদ ইস্যু নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে। এই বিষয়টি তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও তুলে ধরেছেন বলে জানান তিনি।


