কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) দফা ভোটগ্রহণ শেষ হল রেকর্ড অংশগ্রহণের সাক্ষী রেখে, যেখানে ভোটের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠল বাংলা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় ভোটদানের হার ছিল ৯১.৩১ শতাংশ, যা ভোটগ্রহণ শেষে আরও কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। প্রথম দফাতেও দেখা গিয়েছিল উচ্চ ভোটদানের হার, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৯২.৪৭ শতাংশ, যা চূড়ান্তভাবে বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩.১৯ শতাংশে।
পরিসংখ্যান বলছে, দ্বিতীয় দফায় পূর্ব বর্ধমান জেলায় সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে, আর কলকাতা দক্ষিণে ছিল সবচেয়ে কম ভোটদানের হার। বিভিন্ন সমীক্ষা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জল্পনা বাড়ালেও, সেই সব কৌতূহলের উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে-তে।
সব মিলিয়ে, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার বাইরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই সম্পন্ন হল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ (West Bengal Assembly Election 2026)। যা জনতার গণতান্ত্রিক উৎসবে রূপ নিল। কোথায় কোথায় উত্তেজনা বা গোলযোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল,
দেখে নিন একনজরে:
- একবালপুর: ভোট হচ্ছিল শান্তিপূর্ণ। শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছতেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলে তৃণমূল। দু-পক্ষের বাদানুবাদ, হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ।
- কালীঘাট: বুথ পরিদর্শনে শুভেন্দু পোঁছতেই ওঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। পাল্টা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তুলে বাকযুদ্ধে জড়ায় দু-পক্ষ। ফোনে সিআরপিএফ জওয়ানদের ডেকে পাঠান শুভেন্দু। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে দৌড়তে দেখা যায় তাঁকে।
- ভবানীপুর: শুভেন্দুর ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ আসন ভবানীপুর এবারের নির্বাচনে হটস্পট। সকাল থেকে চাপা উত্তেজনা এবং শুভেন্দু-মমতার ঠাণ্ডা লড়াইয়ে উত্তপ্ত ছিল ভবানীপুর।
- নদিয়ার চাপড়া: বিজেপি এজেন্টের মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।
- শান্তিপুর: বিজেপির ক্যাম্প অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
- আরামবাগ: আরাম্বাগের আরান্ডিতে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুরের অভিযোগ।
- তেহট্ট: বুথের সামনে বিজেপি কর্মীদের ইভিএম ভর্তি গাড়ি আটক।
- মন্তেশ্বর: তুল্লা গ্রামে সিপিএম কর্মীকে মারধোরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
- ফলতা: এবারের ভোটে উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে আসে ফলতার নাম। একাধিক বুথে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তোলে বিজেপি। এমনকি অমিত শাহকে ফোন করে এই বিষয়ে আলোচনা করেন শুভেন্দু। পুনর্নির্বাচনের দাবী তোলে বিজেপি। এছাড়াও বিজেপি প্রার্থীকে দেখে ‘চোর’ স্লোগানে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
- ক্যানিং পূর্ব: তৃণমূলের বুথ এজেন্টকে মারধোরের অভিযোগ।
- নবদ্বীপ: বিজেপি প্রার্থীর সামনে দুই দলীয় কর্মীকে মারধোরের অভিযোগে আটক হন দুই তৃণমূল কর্মী।
- টিটাগর: রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখানয় গ্রেফতার হন তৃণমূল কাউন্সিলর।
- খানাকুল: ভোটারকে বাঁশ দিয়ে মারার অভিযোগ। তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে গ্রেফতার দুই।
- মিনাখা: কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বুথ ভাঙার।
- চুঁচুড়া: তৃণমূল-বিজেপি- ফরোয়ার্ড ব্লকের ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ।


