কলকাতা: অন্যান্য বিধানসভা নির্বাচনে বিকেল ৪ টে নাগাদ বুথে যেতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কিন্তু এবার প্রথা ভেঙে সকাল ৮ টা থেকে চক্রবেড়িয়ায় বুথের বাইরে ঠায় বসেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, গতকাল সারারাত জেগেছিলেন বলেও জানান মমতা। এই নিয়ে আগেই কটাক্ষ করেছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর মুখে শোনা গিয়েছে বহুল প্রচলিত প্রবাদ বাক্য, ‘ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না’! এবার বরিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা তথা বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরীও (Adhir Ranjan Chowdhury) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বেনজির কার্যকলাপ নিয়ে খোঁচা মারলেন।
দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, “বাংলায় নির্বাচন সম্পূর্ণ হিংসামুক্ত হবে, এটা আশা করা কঠিন। শাসকদলের দিক থেকে এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা ছিলই। তবুও বিপুল সংখ্যায় মানুষ ভোটে অংশ নিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী বড় সংখ্যায় মোতায়েন থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে যে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। তাই কোনও ভয়ভীতি ছাড়াই মানুষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।”
“প্যানিক রিঅ্যাকশন”!
বলা বাহুল্য, প্রথম দফার পরও শান্তিপূর্ণ ভোট নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রশংসা করেছিলেন অধীর চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। যা নিয়ে অধীরের প্রশংসা শোনা গিয়েছিল স্মৃতি ইরানির মুখে। এদিন অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেন, “তিনি নিজে অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা। কিন্তু তাঁকে যেভাবে বুথে বুথে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে ভবানীপুর আসন নিয়ে তিনি ভীত ও সন্ত্রস্ত। এত তৎপরতার প্রয়োজন ছিল না, এটা তাঁর প্যানিক রিঅ্যাকশন।”
ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন অধীর (Adhir Ranjan Chowdhury)। তাঁর কথায়, “এবারের নির্বাচনে মানুষের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। প্রথম দফায় প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে, দ্বিতীয় দফাতেও ৯০ শতাংশের বেশি ভোট হয়েছে। বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকায় সাধারণ মানুষ মনে করছেন তাঁরা নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন, তাই নির্ভয়ে ভোট দিচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, “এসআইআর-এর আতঙ্কও কাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন ভোট না দিলে তাঁদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তবে পশ্চিমবঙ্গে কোনও কাউন্টার বা এনকাউন্টারের প্রয়োজন ছিল না।”


