36 C
Kolkata
Friday, June 19, 2026
spot_img

স্কুল না ‘ক্যাশ হাব’? কাঁচড়াপাড়ায় ফের উদ্ধার কোটি টাকার নগদ !

Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : কাঁচরাপাড়ার হার্নেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে দ্বিতীয় দফার তল্লাশিতেও ফের উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা (Kanchrapara Cash Recovery)। বীজপুর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ জুন গভীর রাতে স্কুলে ফের অভিযান চালিয়ে আরও প্রায় ৮ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে স্কুল চত্বর থেকে মোট উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা।

প্রথম অভিযানে মিলেছিল ১.৭৭ কোটি টাকা

এর আগে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে কাঁচরাপাড়ার ফোরম্যান কলোনি এলাকায় অবস্থিত হার্নেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে অভিযান চালায় বীজপুর থানার পুলিশ। স্কুলের একটি তালাবন্ধ ঘর বা ভল্ট থেকে প্রায় ১ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার (Kanchrapara Cash Recovery) করা হয়। তিনটি মানি কাউন্টিং মেশিন এনে রাতভর টাকা গোনার কাজ চলে। পাশাপাশি তল্লাশির সময় স্কুলের একটি ‘সিক রুম’ থেকে কন্ডোমের প্যাকেট, মদের বোতল এবং বিলাসবহুল শয়নকক্ষের মতো সাজানো একটি ঘরেরও সন্ধান মেলে বলে।

এই ঘটনায় স্কুলের কোষাধ্যক্ষ তথা চিফ ক্যাশিয়ার অভীক কুমার নাগ এবং সহকারী হিসাবরক্ষক সায়ন ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ সম্পর্কে তাঁদের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

দ্বিতীয় তল্লাশিতে নতুন উদ্ধার

তদন্তের সূত্র ধরে ধৃত দুই অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়েই ১৫ জুন রাতে ফের স্কুলে অভিযান চালায় পুলিশ। সেই তল্লাশিতে আরও প্রায় ৮ লক্ষ টাকা (Kanchrapara Cash Recovery) উদ্ধার হয়। ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় দফার অভিযানে মোট উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে।

দ্বিতীয় অভিযানের পর স্কুলের অ্যাক্টিং প্রিন্সিপাল বিকাশ চন্দ্র পালের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগে প্রাক্তন কাঁচরাপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান কমল অধিকারী, প্রাক্তন বিধায়ক সুবোধ অধিকারী, গৌতম ঘোষ দাস্তিদার, অভীক নাগ এবং সায়ন পালের নাম রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্কুলের তহবিল আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সরানো হয়েছে। স্কুলটি আর্থিক সংকটের মধ্যে চলছিল বলে দাবি করা হলেও, এত বিপুল নগদ অর্থ কোথা থেকে এল, তা নিয়েই তদন্তকারীদের মূল প্রশ্ন।

এদিকে ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে এই উদ্ধার হওয়া অর্থকে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কালো টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সেই অভিযোগের কোনো প্রমাণ না মেলায় এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন