Aaj India Desk,বিহার: শিশুদের পুষ্টির জন্য চালু হওয়া মিড-ডে মিল প্রকল্প আজ সেই ব্যবস্থাই কি হয়ে উঠছে ভয়ঙ্কর ঝুঁকির কারণ? ওডিশার ময়ূরভঞ্জ জেলার একটি সরকারি আবাসিক স্কুলে খাবার খাওয়ার পরই একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়ে শতাধিক পড়ুয়া। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর। আর তারপর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক, ক্ষোভ আর প্রশ্নের ঝড়।
কী ঘটেছিল সেদিন?
স্কুলে নিয়মমাফিক মিড-ডে মিল পরিবেশন করা হয়েছিল। কিন্তু খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পড়ুয়ারা বমি, পেট ব্যথা, মাথা ঘোরা-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে একসঙ্গে বহু পড়ুয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় এক পড়ুয়ার।
অভিযোগের তীর কোথায়?
অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ খাবারের গুণমান ছিল অত্যন্ত খারাপ নির্ধারিত মেনু না মেনে অন্য খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল
কোনও রকম মান পরীক্ষা ছাড়াই শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল সেই খাবার
এই ঘটনায় উঠে আসছে ভয়ঙ্কর প্রশ্ন শিশুদের খাবার কি কোনও পরীক্ষাগারের বস্তু?
দায় এড়ানোর চেষ্টা?
ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ ঘোষণাও হয়েছে।কিন্তু প্রশ্ন উঠছে
শুধু সাসপেনশনেই কি দায় শেষ?
এই অব্যবস্থার মূল দায় কার? কেন বারবার একই ঘটনা ঘটছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে? ভেঙে পড়ছে ভরসা
মিড-ডে মিল প্রকল্প শুধু খাবার নয়, এটি দরিদ্র পরিবারের শিশুদের কাছে বেঁচে থাকার ভরসা।
কিন্তু যখন সেই খাবারই হয়ে ওঠে অসুস্থতার কারণ, তখন শুধু শরীর নয় ভেঙে পড়ে পুরো ব্যবস্থার উপর বিশ্বাস।
একজন অভিভাবকের কথায় “স্কুলে পাঠাই বাঁচার জন্য, মরার জন্য নয়!”বড় প্রশ্নগুলো রয়ে গেল
নিয়মিত খাবারের মান পরীক্ষা হয় কি?
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের প্রশিক্ষণ কতটা যথাযথ?
সরকারি নজরদারি কি শুধুই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ?
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কে নেবে?
এই ঘটনা কোনও সাধারণ দুর্ঘটনা নয় এটি একটি চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।যেখানে অবহেলা, গাফিলতি এবং দায় এড়ানোর সংস্কৃতি মিলে শিশুদের জীবনের সঙ্গে খেলছে।আজ সবচেয়ে বড় প্রশ্ন মিড-ডে মিল কি পুষ্টির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, না লুকিয়ে রাখছে মৃত্যুর ঝুঁকি?


