Aaj India desk, কলকাতা: ক্ষমতায় এসে বিজেপি (BJP) সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, তিনি হিন্দুদের দেখবেন। কিন্তু একথা বলেননি যে অবৈধ দখলদার তোলার নামে গরীব মানুষের রুটি রুজি কেড়ে নেবেন। এমনটাই বলছেন দমদম স্টেশনের হকাররা। কাল রাতে বিজেপি সরকারের বুলডোজারের ধাক্কায় যাঁরা নিজেদের সর্বস্ব হারিয়েছেন। ভাঙ্গা দোকানের সামনে বসে কান্নায় ভেঙে পড়া এক হিন্দু মহিলার ছবি ইতিমধ্যেই সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল।
কি ঘটেছিল?
বিজেপি (BJP) ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রেলের অতিসক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। শিয়ালদহ হাওড়া স্টেশন থেকে শুরু করে সমস্ত স্টেশনেই হকার উচ্ছেদ অভিযান করছে তারা। গতকাল গভীর রাতে দমদম স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন রাস্তা এবং স্টেশন চত্বরেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। চোখের নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে যায় ৩০-৪০ বছরের পুরনো দোকানপাট। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, হকারদের বেআইনি দোকান সরানোর জন্য আগেই আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দোকান না সরানোয় এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যদিও হকাররা বলছেন পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই হঠাৎ এই হামলায় কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁরা। চোখের সামনে নিজের তিল তিল করে গড়ে তোলা দোকান ভাঙতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সর্বস্বান্ত ব্যবসায়ীরা।
হকারদের বক্তব্য কী?
বিজেপি (BJP) সরকারের কঠোর নীতির ফলে সর্বস্ব হারিয়ে ফেলা এই হকারদের বক্তব্য,” , “সরকার উচ্ছেদ করতে চাইলে আমাদের বিরোধিতা করার ক্ষমতা নেই, কিন্তু আমাদের মতো গরিব মানুষ যারা রোজ এনে রোজ খায়, তাদের কী হবে? আমরা কি সকালে খালি হাতে বের হব আর রাতে খালি হাতে বাড়ি ফিরব? অন্তত পুজো অব্দি আমরা সময় চেয়েছিলাম। তাঁর মধ্যে একটা কিছু ব্যবস্থা করে নিতাম।” পরিবর্তনের আশায় বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন এই হকারদের অনেকে। বিজেপি সরকার তাঁদের সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে। এই সময়ে তাঁদের পাশে রয়েছে বাম সংগঠনগুলো। গতকাল রাতেও সিটু নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় এবং বর্ষীয়ান বাম নেতা তড়িৎ তোপদার সরাসরি দমদম স্টেশন চত্বরে হকারদের হয়ে আন্দোলন করেন।


