Aaj India Desk, কলকাতা : রেড রোডের (Red Road) ভাগ্যও বোধহয় এখন ক্যালেন্ডার দেখে ঠিক হয়। কয়েক মাস আগেও যে রাস্তা ধর্মীয় জমায়েতের জন্য নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই একই রাস্তাই এখন আন্তর্জাতিক যোগা দিবসের প্রস্তুতিতে টানা কয়েক দিনের জন্য কার্যত অবরুদ্ধ। ফলে সমস্যা কি আদৌ রাস্তা বন্ধ হওয়া নিয়ে নাকি কে এবং কী কারণে রাস্তা বন্ধ করছে, সেটাই আসল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
চলতি বছর ঈদ-উল-আযহার নামাজ অন্যান্য বছরের মতো রেড রোডে (Red Road) অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহৎ জমায়েত স্থানান্তরিত করা হয়েছিল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। সরকারের যুক্তি ছিল, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন অনেকেই। যদিও সেই সময় মুসলিম সংগঠনগুলির একাংশের দাবি ছিল, কয়েক দশকের পুরনো একটি প্রথা হঠাৎ ইচ্ছাকৃতই বদলে দেওয়া হয়েছে।
এর রেশ মিটতে না মিটতেই ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রেড রোডে (Red Road) বড় আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং মঞ্চ নির্মাণের কারণে ৭ দিন ধরে ওই এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক নির্দেশিকায় বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নামাজের সময়ের নিয়ম টেনে শুরু হয়েছে সমালোচনা। সমালোচকদের বক্তব্য, কয়েক ঘণ্টার ধর্মীয় জমায়েতের ক্ষেত্রে জনদুর্ভোগের যুক্তি সামনে আনা হলেও যোগ দিবসের মতো অনুষ্ঠানের জন্য বহুদিন রাস্তা বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে কি সেটি জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে না? সরকারের এই আচরণকে দ্বিচারিতা বলে উল্লেখ করে তারা দাবি করেছেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এক নিয়ম সবক্ষেত্রেই প্রয়োগ করতে হবে।
রেড রোডকে ঘিরে এই বিতর্ক এখন শুধুমাত্র ট্রাফিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিরোধী দল ও বিভিন্ন নাগরিক মহলের একাংশের অভিযোগ, এর ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ঘিরে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও সরকারের দাবি, সিদ্ধান্তের ভিত্তি ধর্ম নয়, অনুষ্ঠানটির পরিসর ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজন। তবু ‘সমান নীতি’ এবং ‘নির্বাচিত কড়াকড়ি’র এই বিতর্ক আপাতত আলোচনার কেন্দ্রেই থেকে যাচ্ছে।


