Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা (BaruipurCase)কে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বেড়েছে। সোমবার কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধি দল যাওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে পৌঁছায় ঋতব্রত তৃণমূলের প্রতিনিধি দল (Ritabrata Trinamool)। এই দলে ছিলেন সাংসদ সায়নী ঘোষ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং সদ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দেওয়া প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
বারুইপুরে পৌঁছনোর পর প্রথমে প্রতিনিধিদের পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয়। পরে প্রশাসনের অনুমতি মেলায় তাঁরা নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। কিশোরীর বাবার সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন প্রতিনিধিরা।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা এখানে এসেছি। অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এমন নৃশংস ঘটনা আর না ঘটে, সেই জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।” একই সঙ্গে তিনি রাজ্য সরকারের আমলে পাশ হওয়া ‘অপরাজিতা বিল ২০২৪’ দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। উল্লেখ্য, রাজ্য বিধানসভায় বিলটি পাশ হলেও এখনও রাজ্যপালের অনুমোদন না মেলায় তা কার্যকর হয়নি।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালেই বিজেপির প্রতিনিধিদলও বারুইপুরে পৌঁছে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে। দলে ছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁরা পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে আজই ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক করে তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার নিখোঁজ হওয়ার পর রবিবার সকালে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয় নাবালিকার দেহ। ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জনতার গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গোটা ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।


