Aaj India Desk, কলকাতা : মৌলালির নামে ভাইরাল, কিন্তু ঠিকানা রাঁচি! একটি ভিডিওর ‘লোকেশন’ বদল ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন তরজা। ফ্যাক্ট-চেকে সামনে আসে যে ভিডিওটি মৌলালির বলে প্রচার করা হলেও সেই ভিডিও আসলে রাঁচির আর তা প্রকাশ্যে আসতেই ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে বামেদের বিরুদ্ধে সরব হলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
গত শুক্রবার NEET প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকা বিক্ষোভ মিছিল ধর্মতলা চত্বরে পৌঁছতেই উত্তেজনা তৈরি হয়। মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, পথ অবরোধ এবং বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার সময় কয়েকজন সাংবাদিক ও পুলিশকর্মীর উপর হামলার অভিযোগও সামনে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এই ঘটনার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। তারই মধ্যে একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক তরজা।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিজেপির পতাকা লাগানো একটি গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে কয়েকজন যুবক একটি মিছিলে টমেটো ও ইট ছুড়ে মারছেন। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হয়, ঘটনাটি কলকাতার মৌলালিতে ঘটেছে এবং সেটি ধর্মতলার প্রতিবাদ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। তবে পরে একাধিক ফ্যাক্ট-চেকের মাধ্যমে দাবি করা হয়, ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে কলকাতার কোনও সম্পর্ক নেই। যাচাই করে জানা যায়, ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের নয়, ঝাড়খণ্ডের রাঁচির একটি ঘটনার। এরপরই ভিডিওটির সত্যতা এবং সেটি কীভাবে মৌলালির ঘটনা বলে প্রচারিত হল, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ঘটনার জেরে বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য সহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়।
এরপরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, “যাঁরা ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে বাংলাকে বদনাম করছেন, তাঁরা সমাজবিরোধী। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে।”
অন্যদিকে অভিযোগের জবাবে বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, ফ্যাক্ট-চেকের পরে তাঁরাও জানতে পারেন যে ভিডিওটি মৌলালির নয়। তাঁর বক্তব্য, “আমরা পরে ফ্যাক্ট-চেক করে জানতে পারি, ভিডিওটি মৌলালির নয়। তবে ভিডিওটি ভুয়ো নয়। ঘটনাটি সত্যিই ঘটেছিল। ঘটনাটি যেখানে ঘটুক না কেন, কোনও রাজনৈতিক মিছিলে টমেটো বা ইট ছোড়া সমানভাবে নিন্দনীয়।”


