Aaj India Desk, কলকাতা : বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এবার বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim)। তাঁর অভিযোগ, সরকার বদলালেও পুলিশের কাজের ধরনে কোনও পরিবর্তন হয়নি। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনা তুলে ধরে পুলিশি সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহম্মদ সেলিম (Md Salim) দাবি করেন, বারুইপুরের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ডায়েরি করা হলেও পুলিশ প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেয়নি। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকেই সামনে এনেছে। সেলিম বলেন, পুলিশের কাজের ধরনে এখনও ঔপনিবেশিক মানসিকতার প্রভাব রয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বদলে ক্ষমতাসীনদের নিরাপত্তাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে পুলিশি সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি সিপিআইএম নেতার।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে সেলিম (Md Salim) বলেন, সমস্যা আইনের অভাবে নয়, বরং আইনের সঠিক প্রয়োগে। অতীতের বিভিন্ন বহুল আলোচিত ঘটনার উল্লেখ করে তাঁর দাবি, অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার সংস্কৃতি এখনও বন্ধ হয়নি। একইসঙ্গে আরজি কর-কাণ্ডের সিবিআই তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে কটাক্ষ করে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক।
সাম্প্রতিক গণপিটুনির ঘটনাগুলিও তুলে ধরেন সেলিম। শীতলকুচি-তে মন্টু মিয়াঁর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে গেলে সিপিআইএম নেতাদের উপর হামলা হয়েছে। তাঁর দাবি, সিপিআইএম কর্মীদের আন্দোলনের জেরেই পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
চোপড়া-য় এক আদিবাসী মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগে বিজেপির এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে দু’দিনেও এফআইআর না হওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন সেলিম। পাশাপাশি, অনুপ্রবেশ ইস্যু এবং ভোটাধিকার নিয়ে বিজেপির অবস্থানেরও সমালোচনা করেন তিনি।সাথে মহম্মদ সেলিম প্রশ্ন তোলেন, সরকার পরিবর্তনের পরও যদি প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কোনও মৌলিক পরিবর্তন না আসে, তবে বিজেপি সরকার কি কার্যত “টিএমসি-২” হিসেবেই কাজ করছে? তিনি স্পষ্ট বলেন, “তৃণমূল জমানার দুর্নীতিগ্রস্ত ও দাগী চিকিৎসকদের এখন চিকিৎসক দিবসে বিজেপি মন্ত্রীদের আশেপাশে ঘুরঘুর করতে দেখা যাচ্ছে। আসলে আগে যে তোলাবাজির টাকা কালীঘাটে যেত, এখন তা অন্য ঘাটে যাচ্ছে। শুধু রেটটুকু বেড়েছে।”
বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপিআইএমের অভিযোগের ফলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, পুলিশি ভূমিকা এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্ক আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


