কলকাতা: রবিবার সকালে বারুইপুরে (Baruipur incident) নির্যাতিতার বস্তাবন্দী দেহ উদ্ধারের পর ক্ষোভে ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামক এক যুবককে অভিযুক্ত সন্দেহে পিটিয়ে মারে স্থানীয়রা। সেইসঙ্গে রাস্তা-রেল রাস্তা অবরোধ করে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ, সূর্যপুর পুলিশ ক্যাম্পে ভাঙচুর, পুলিশের গাড়িতে হামলা, রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বারুইপুর। এবার বারুইপুর কাণ্ডে বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
মঙ্গলবার নির্যাতিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি দাবী করেন, বারুইপুরের অশান্তির (Baruipur incident) নেপথ্যে সক্রিয় ছিল মৌলবাদী ও দেশবিরোধী শক্তি। পাশাপাশি ভোটে পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অভিযোগও তোলেন তিনি। শুধু তাই নয়, গণপিটুনিতে মৃত যুবক ইন্দ্রজিৎ তাঁতি ‘নির্দোষ’ বলে দাবী করেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।
শুভেন্দু বলেন, গণপিটুনিতে নিহত যুবক, যাকে স্থানীয়রা প্রথমে সন্দেহভাজন বলে দাবি করেছিলেন, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে এই অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। অর্থাৎ তিনি নির্দোষ বলেই প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। সেই কারণে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাকেও আলাদা অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এই মামলার দোষীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট করে বলেন, “যে অপরাধ করেছে, তার যেমন বিচার হবে, তেমনই নির্দোষ কাউকে হত্যা করলেও তার বিচার হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।” পাশাপাশি, “ভোটে যাঁরা হেরেছেন, তাঁরাই উসকানি দিয়ে এই অশান্তি ঘটিয়েছেন।” তিনি জানান, গোটা ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেন তিনি।
উল্লেখ্য, স্থানীয় এবং পরিবারের দাবী ছিল, নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ঘটনায় ৪-৫ জন জড়িত রয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি অশান্তি, ভাঙচুর এবং গণপিটুনির ঘটনাগুলিও পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এই মন্তব্যের পর বারুইপুর কাণ্ড (Baruipur incident) ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গেল।


