Aaj India Desk, কলকাতা: কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর (Mahua Moitra) নিরাপত্তা নিয়ে বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Kolkata High Court)। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ জানায়, নিজের লোকসভা এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি বা সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতে গেলে মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে আরও দু’জন অতিরিক্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী (Security Guard) থাকবেন।
পাশাপাশি, তাঁর নিরাপত্তা যাতে কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনকেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করার জন্য নদিয়া জেলার পুলিশ সুপারকে বলা হয়েছে। আগামী এক মাস, অর্থাৎ ১ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত এই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু থাকবে।
সম্প্রতি কৃষ্ণনগরে একাধিকবার বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর কনভয়কে লক্ষ্য করে ডিম ও আলু ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও আবার তাঁর গাড়ি ঘিরে কালো পতাকা দেখিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার চাপড়াতেও একই ধরনের পরিস্থিতির তৈরি হয়। মহুয়ার গাড়ির পথ আটকে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি রাস্তা অবরোধ করে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
আদালতে মহুয়া মৈত্রর হয়ে সওয়াল করেন তাঁর আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে মহুয়াকে বারবার হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েও নিজের এলাকায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না মহুয়া। অন্য অনেক নেতা-নেত্রী যদি সরকারি নিরাপত্তা পান, তাহলে মহুয়ার ক্ষেত্রে কেন বারবার এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এর পরেই আদালত স্পষ্ট করে জানায়, কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির উপর হামলা বা তাঁকে বাধা দেওয়া কখনওই সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের পরিচয় নয়। এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনকে কঠোর হাতে মোকাবিলা করতে হবে। একজন জনপ্রতিনিধি যাতে নিজের এলাকায় নিরাপদে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এবং দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশের।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মহুয়া মৈত্র যখনই তাঁর লোকসভা এলাকায় যাবেন, তার অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি বা সফরের বিস্তারিত তথ্য নদিয়ার পুলিশ সুপারকে জানাতে হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর যাতায়াতের পথে প্রয়োজনীয় পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে প্রশাসন। পরপর বিক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যেই মহুয়া মৈত্রর নিরাপত্তা নিয়ে হাই কোর্টের এই নির্দেশকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।


