Aaj India Desk, কলকাতা: কলকাতা ও হাওড়ার পর এবার শিলিগুড়ি এবং দুর্গাপুর পুরনিগমের ওয়ার্ড (Ward) সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার (State Government)। দুই পুরনিগমের সীমানা নতুন করে সাজিয়ে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে সোমবার সরকারি নির্দেশিকা জারি করেছে নগরোন্নয়ন দফতর (UD & MA)। এই ঘোষণার পরই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে পুরভোট (Municipal Election) নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুর্গাপুর পুরনিগমে এতদিন ৪৩টি ওয়ার্ড ছিল। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে হচ্ছে ৫৩। অর্থাৎ, দুর্গাপুরে নতুন করে ১০টি ওয়ার্ড যোগ হচ্ছে। অন্যদিকে, শিলিগুড়ি পুরনিগমে ৪৭টি ওয়ার্ডের জায়গায় এবার থাকবে ৬৩টি। সেখানে বাড়ছে ১৬টি ওয়ার্ড।
ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশ ইতিমধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং ও পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এবং শিলিগুড়ি ও দুর্গাপুর পুরনিগমের কমিশনারদের কাছেও এই নির্দেশিকার কপি পাঠানো হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক স্তরেও নতুন করে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করা হয়েছিল। হাওড়া পুরনিগমের আসন সংখ্যাও বাড়িয়ে ৬৮ করা হয়। তবে কলকাতা ও হাওড়ার ক্ষেত্রে বিধানসভায় বিল পেশ করা হয়েছিল। শিলিগুড়ি ও দুর্গাপুরের ক্ষেত্রে এখনও এমন কোনও বিল বিধানসভায় আনা হয়নি।
রাজনৈতিক দিক থেকেও দুই পুরনিগমই যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। শিলিগুড়ির শেষ পুরভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ৩৭টি আসনে জয় পেয়ে পুরবোর্ড গঠন করেছিল। সিপিআইএম পেয়েছিল ৪টি, বিজেপি ৫টি এবং কংগ্রেস ১টি আসন। অন্যদিকে, দুর্গাপুরে শেষ পুরভোট হয়েছিল ২০১৭ সালে। সেই নির্বাচনে ৪৩টি আসনেই জয় পেয়েছিল তৎকালীন শাসকদল। যদিও ওই নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধীদের পক্ষ থেকে সন্ত্রাস ও ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
দুর্গাপুরে গত সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে পুরভোট হয়নি। এবার ওয়ার্ড সংখ্যা নতুন করে নির্ধারণ হওয়ায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সেখানে নির্বাচন হতে পারে—এমন জল্পনাও শুরু হয়েছে। শিলিগুড়িতেও নতুন ওয়ার্ড বিন্যাসের পর ভোটের প্রস্তুতি কত দ্রুত এগোয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
তবে পুরভোটের প্রস্তুতির মধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সামনে রয়েছে অন্য সমস্যা। রাজ্যের একাধিক নির্বাচন সংক্রান্ত মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন। সেই মামলাগুলির কারণে বেশ কিছু ইভিএম এবং ভোটের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করে রাখতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলাগুলির কারণে নির্বাচনী পরিকাঠামোর একটি অংশ আটকে রয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত ইভিএম ও অন্যান্য ব্যবস্থা হাতে না থাকায় ভোটের নির্ঘণ্ট তৈরিতেও সমস্যা হচ্ছে। তাই একদিকে নতুন করে ওয়ার্ড বিন্যাসের কাজ এগোলেও, অন্যদিকে আদালতের আইনি জট কাটিয়ে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো প্রস্তুত করাই এখন কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ।


