30 C
Kolkata
Saturday, May 23, 2026
spot_img

কুর্মিদের উপর পুলিশি অত্যাচার? খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ শুভেন্দুর!

Aaj India Desk, পুরুলিয়া : গতবছর থেকেই জাতীয় পরিচয়ের দাবিতে কুর্মি সম্প্রদায়ের (Kurmi Community) আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চলছে রাজনৈতিক বিতর্ক। এর মধ্যেই তাদের উপর পুলিশি অত্যাচার ও ভুয়ো মামলার অভিযোগ সামনে আসতেই কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দ্রুত পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারির কাছে রিপোর্ট তলব করে আদিবাসী কুর্মি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সত্যিই পুলিশি অত্যাচার হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আদতে কী ঘটেছিল ?

দীর্ঘদিন ধরে কুর্মি সমাজের (Kurmi Community) একাংশের দাবি, তাঁদেরকে তফসিলি জনজাতি (ST) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে কুর্মিরা OBC শ্রেণিভুক্ত। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, ঐতিহাসিক ও সামাজিক দিক থেকে তাঁদের আদিবাসী স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।

এই দাবিতেই ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর, দুর্গাপুজোর আগে কুর্মি সম্প্রদায় রেল অবরোধ করে আন্দোলন করে। সেই সময় কলকাতা হাইকোর্ট রেল অবরোধকে ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘বেআইনি’ বলে। আদালতের নির্দেশের পরেও আন্দোলনকারীরা অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। তখনই অভিযোগ ওঠে, আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি নির্যাতন চালানো হয় এবং একাধিক ভুয়ো মামলা দায়ের করা হয়।

রেলওয়ে ও রাজ্য পুলিশের পৃথক মামলায় মোট ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার মধ্যে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ গ্রেপ্তার করে ২৯ জনকে এবং আরপিএফ গ্রেপ্তার করে ২২ জনকে। স্টেশন ভাঙচুর ও রেল পরিষেবা ব্যাহত করার অভিযোগও ওঠে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে।

কুর্মিদের প্রতিবাদে রাজনৈতিক স্লোগান

পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর পুরুলিয়ার নবনির্মিত বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জনসভা করে আদিবাসী কুর্মি সমাজ (Kurmi Community)। এই ঘটনার পর থেকেই কুর্মি সমাজের একাংশের মধ্যে পুলিশ ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয়। সেখান থেকেই সংগঠনের আদি নেতা অজিত প্রসাদ মাহাতো ‘নো ভোট টু TMC’-র ডাক দেন। পরে সংগঠনের মধ্যে বিভাজনও তৈরি হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কোটশিলার মুর্গুমার কেনকেচ পাহাড়ের এক কর্মসূচিতে তৃণমূলকে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার রাতে অজিত প্রসাদ মাহাতো বলেন, “জাতীয় পরিচয়ের আন্দোলনে হাইকোর্টের নির্দেশের আড়ালে আমাদের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও গ্রামে গ্রামে পুলিশি অভিযান চালানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন, এতে আমাদের আন্দোলনের দাবির যথার্থতা প্রমাণিত হয়েছে।”

এই দাবিগুলির যথার্থতা প্রমাণের লক্ষ্যে বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, কুর্মালি ও রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন