26.5 C
Kolkata
Friday, August 7, 2026
spot_img

অনশন ভাঙানোর ৫ মিনিটেই ফাঁস ছবি! কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভাঙার অভিযোগ ওয়াংচুকের

Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারের (Central Government) দেওয়া আশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ফের সরব হলেন পরিবেশবিদ ও শিক্ষাকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। ২৬ দিনের অনশন শেষ করার সময় তোলা ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত রক্ষা করা হয়নি। এই ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপর তাঁর বিশ্বাস অনেকটাই কমে গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সোনম ওয়াংচুক বলেন, আন্দোলনের শেষদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যে বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, পরে সেই কথার আর কোনও মূল্য দেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, এই ঘটনার পর শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিই তাঁর আস্থা নষ্ট হয়েছে।

তিনি জানান, নিট (NEET) পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবিতে তিনি অনশনে বসেছিলেন। অনশনের ২৬তম দিনে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দিল্লি থেকে গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৪ জুলাই গভীর রাতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে স্যুপ খাইয়ে অনশন ভাঙান।

ওয়াংচুকের অভিযোগ, অনশন ভাঙানোর আগে তিনি একটি স্পষ্ট শর্ত রেখেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, শুধু শাসকদলের মন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর অনশন ভাঙানোর ছবি যেন প্রকাশ না করা হয়। তাঁর আশঙ্কা ছিল, এতে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে। বরং বিরোধী দলের প্রতিনিধি ও ছাত্র সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে একটি যৌথ বার্তা প্রকাশের পরই সেই ছবি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া হবে—এমনটাই আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সেই শর্তে সম্মতি জানিয়েছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-র কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিকও এই আলোচনার সাক্ষী ছিলেন। কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্রুতি মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ওয়াংচুকের দাবি, অনশন ভাঙানোর মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তাঁর ছবি বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচার হতে শুরু করে। পরে আইবির এক আধিকারিক এসে তাঁকে জানান, ছবিগুলি ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যমের হাতে পৌঁছে গিয়েছে। এই ঘটনাতেই তিনি সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়েছেন বলে জানান।

একই সঙ্গে সরকারের সঙ্গে কোনও গোপন সমঝোতা বা তথাকথিত ‘মিডনাইট ডিল’-এর অভিযোগও তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর কথায়, যদি ব্যক্তিগত লাভের জন্য কোনও সমঝোতা করার ইচ্ছা থাকত, তাহলে ২৬ দিন অনশন চালিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন ছিল না। তিনি বলেন, “যদি ডিলই করতে চাইতাম, তাহলে এতদিন অনশন করতাম না। অনেক আগেই নিজের জন্য কোনও পদ বা সুবিধা চাইতে পারতাম। আমি আন্দোলনে নেমেছিলাম শুধু নীতির প্রশ্নে।”

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি নিজের হতাশার কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন ওয়াংচুক। তাঁর মতে, জনগণের সামনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হওয়ায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত।

সোনম ওয়াংচুকের এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তাঁর অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এখন সকলের নজর, তাঁর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি এবং শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে আগামী দিনে তিনি কী পদক্ষেপ নেন।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন