Aaj India Desk, কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে দলবদল ও দলভাঙনের জেরে তিতিবিরক্ত মানুষ। এর মধ্যেই তৃণমূলের একাংশ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে বারবার অভিযোগ ওঠায় এবার কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “মানুষ জামা বদলাতে ভোট দেয়নি, জামার ভেতরের মানুষ বদলাতে ভোট দিয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের আগে বিজেপির বিরোধিতা করে পরে গেরুয়া শিবিরে এসে পুরসভা বা পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ মিলবে না।
‘বিজেপির দরজা বন্ধ’
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, ভোটের আগের দিন পর্যন্ত যাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচার করেছেন বা গণনাকেন্দ্রে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল, ফল ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের অনেককে গেরুয়া পতাকা হাতে দেখা গিয়েছে। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও একাংশ বিজেপিতে ঢোকার চেষ্টা করছে। এমন ব্যক্তিদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ ছিল, ভবিষ্যতেও বন্ধই থাকবে।
পাশাপাশি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, “কেউ যদি মনে করেন, হঠাৎ বিজেপিতে যোগ দিয়ে পুরসভা বা পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে যাবেন, তা কখনওই হবে না।” তিনি বলেন, দলের নেতা থেকে কর্মী, সবাইকে মনে রাখতে হবে, মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিচয় বদলের পক্ষে নয়।
তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ
রাজ্য বিজেপি সভাপতির দাবি, বর্তমানে তৃণমূলের অন্দরেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলছে। তাঁর কথায়, “তৃণমূল তৃণমূলকে মারছে। যেখানে ৭৫-২৫ ভাগ ছিল, সেখানে এখন কেউ ৯৫, কেউ ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ওই ৫ শতাংশ এখন বিজেপির নাম করে ৯৫ শতাংশের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে।”
তবে শমীক ভট্টাচার্য স্বীকার করেন, কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের অভিযোগ তাঁর কানে এসেছে। তাঁর দাবি, সম্প্রতি তৃণমূলে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের দেখা গিয়েছে। তবে তিনি বলেন, “কোনও ব্যবস্থাই শতভাগ ত্রুটিমুক্ত নয়। আমরা দ্রুত এ ধরনের ঘটনা রুখতে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”


