Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ: টানটান উত্তেজনার মধ্যেই শুরু হয়েছে নন্দীগ্রাম (Nandigram) ও রেজিনগর (Rejinagar) বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের (By-election) ভোট গণনা। প্রথমে পোস্টাল ব্যালট গণনার পর শুরু হয়েছে ইভিএমের ভোট (EVM Vote) গোনার প্রস্তুতি। গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। শুক্রবার প্রকাশিত হচ্ছে তার ফলাফল।
তবে এবারের উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল ভোটের আগেই। তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক ও দলের নাম নিয়ে দুই শিবিরের বিরোধ গড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI) থেকে আদালত পর্যন্ত। জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কার, তা নিয়ে কালীঘাটের তৃণমূল এবং ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের মধ্যে টানাপোড়েন এই উপনির্বাচনকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। ফলে ভোটের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।
প্রথম রাউন্ডের পরেই গণনাকেন্দ্র ছাড়লেন সফিউজ্জামান
শুক্রবার রেজিনগরের বহরমপুর গার্লস কলেজের গণনাকেন্দ্রে সকাল থেকেই ছিল রাজনৈতিক তৎপরতা। প্রথম রাউন্ডের গণনা শেষ হতেই আচমকা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখকে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তাঁর মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় আলোচনা।
সফিউজ্জামান বলেন, “যাই ঘুমাতে যাই। কাল সারারাত ঘুম হয়নি। আর আমার এখানে এখন কাজ নেই। এবার রেস্ট নিতে চাই একটু।”
এরপর তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ঘুম থেকে উঠে কি আবার গণনাকেন্দ্রে ফিরবেন? উত্তরে তিনি বলেন, “ঘুম ভেঙে আসার প্রয়োজনীয়তা হবে বলে মনে হয় না। বাস্তবে ঘুমের দেশ থেকে ফিরতে হবে। তবে আপাতত ঘুমোতে যাই। মানুষ দেখেছেন আসলে ভোটে কী হয়েছে। তবে অনেক সময় ঘুমোতে যেতে হয় না। ঘুম পাড়ানো হয়। ধরে নিন সেটাই হল।”
কারচুপির অভিযোগ কংগ্রেস প্রার্থীর
অন্যদিকে, গণনাকেন্দ্রের বাইরে বেরিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কংগ্রেস প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি। ভোট গণনা নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “ক্যালকুলেটিভ রিগিং করেছে। সব বুথেই বিজেপি এগিয়ে। আন্দোলন হবে এর বিরোধিতা করে। দিল্লির থেকেও বলা হোক। এখানে তো আর বিরোধী বলে কেউ নেই। সব টেবিলের তলায় খেলা। সবকটা দালাল একটা। ভিতরে থেকেই বা আর কী করব। বাইরেই থাকি।”তাঁর অভিযোগ, ভোট গণনার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ব্যবধান বাড়িয়ে এগিয়ে বিজেপির শাখারভ সরকার
অন্যদিকে, গণনার প্রাথমিক পর্বে বড় ব্যবধানে এগিয়ে যেতে দেখা যায় বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারকে। প্রথম রাউন্ডের শেষে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় প্রায় ৬ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় রাউন্ডের শেষে সেই ব্যবধান বেড়ে ১৮ হাজারেরও বেশি হয়।
এই পরিস্থিতিতে দলের রেকর্ড ভোট পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন বিজেপি প্রার্থী। গণনাকেন্দ্রের বাইরে এসে তিনি বলেন, “আমিও তো বেরিয়ে এসেছি। তবে আমি বেরিয়ে এসেছি একটু ‘রিল্যাক্স’ করতে।” অন্যদিকে, গণনার সময় গণনাকেন্দ্রের আশপাশে দেখা যায়নি আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর এবং রেজিনগরের দলের প্রার্থী তথা তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদকে।
সব মিলিয়ে, রেজিনগরে ভোট গণনার শুরু থেকেই একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে। একদিকে প্রার্থীদের গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া, অন্যদিকে কারচুপির অভিযোগ এবং বিজেপি প্রার্থীর বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকা—সব মিলিয়ে উপনির্বাচনের ফলাফল ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।


