30.3 C
Kolkata
Thursday, June 18, 2026
spot_img

“এবার ফিরে যাওয়ার পালা”- NCPI-তে যোগের পর কিসের ইঙ্গিত দিলেন সুদীপ?

Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের চিঠিতে শেষ স্বাক্ষরটি ছিল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Sudip Banerjee)। আর সেই কারণেই দলের ভাঙন-জল্পনায় তাঁর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষ সাংসদ হিসেবে পরিচিত সুদীপ এখন এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি NDA-কে সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলে এমনও জল্পনা চলছে যে, ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর পদও পেতে পারেন তিনি। মঙ্গলবার দিল্লি থেকে ফেরার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এখন ফিরে যাওয়ার পালা। বিধানসভাতেও একই ধরনের প্রস্তুতি চলছে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূলের সাংসদরা NCPI-তে যোগ দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার সঙ্গে বিধানসভার কোনও সম্পর্ক নেই। ঋতব্রতের দাবি, তাঁরাও এই বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমেই জেনেছেন। ঋতব্রত বলেন, “আমরা দেখেছি তৃণমূলের সাংসদরা NCPI-তে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা এখন NDA-র শরিক দলের অংশ। তাঁরা হয়তো সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু আমাদের এ বিষয়ে কোনও ধারণা ছিল না। সবটাই মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি।”

তবে ঋতব্রত যা-ই বলুন না কেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ এর আগে ঋতব্রত একাধিকবার দাবি করেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে তৃণমূলের বহু বিধায়ক যোগাযোগ রাখছেন। কখনও তিনি ৫৮ জন, কখনও ৬২ জন বিধায়কের সমর্থনের কথা বলেছিলেন। তাই সুদীপ যখন বলেন, “বিধানসভাতেও একই ধরনের প্রস্তুতি চলছে”, তখন তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে NCPI-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কেও মুখ খুলেছেন সুদীপ। তিনি বলেন, “একটা পদক্ষেপ শেষ হয়েছে। এবার সকলের ফিরে যাওয়ার পালা। দ্বিতীয় দফায় ডাক এলে আবার আলোচনা হবে। ২০ জুলাই লোকসভা শুরু হওয়ার আগে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” সুদীপ আরও জানান, এই পুরো প্রক্রিয়ার দেখভাল করছেন কাকলি ও শতাব্দী। তাঁদের নেতৃত্বেই পরবর্তী কর্মসূচি এগোবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

তবে NCPI-তে যোগ দিলেও বিদ্রোহী সাংসদরা এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও দলীয় সম্পদের প্রশ্ন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন না। এ প্রসঙ্গে সুদীপ বলেন, ভবিষ্যতে দুই পক্ষের অবস্থান কী হবে, তারা আরও কাছাকাছি আসবে কি না, দলীয় প্রতীক, সম্পদ ও আর্থিক বিষয়গুলির কী হবে-এসবই এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তাঁর মতে, এই সব বিষয় শেষ পর্যন্ত আদালতেই গড়াতে পারে। সুদীপের কথায়, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বলছে, দলীয় প্রতীক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিতর্কের নিষ্পত্তি সাধারণত আদালতের মাধ্যমেই হয়। একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, লোকসভার স্পিকার নতুন ব্লক ও দলীয় অফিস সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত সম্পন্ন করবেন।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন