29 C
Kolkata
Saturday, September 5, 2026
spot_img

এবার দমদম পার্কের জনপ্রিয় রেস্তরাঁয় হানা! ফ্রিজে থরে থরে সাজানো পচা মাংস, কী খাচ্ছেন শহরবাসী?

Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা: রাজ্যজুড়ে রেস্তরাঁ, হোটেল ও খাবারের দোকানে খাবারের মান এবং পরিচ্ছন্নতা খতিয়ে দেখতে অভিযান চালাচ্ছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর (West Bengal Food Safety Department)। সেই অভিযানে একের পর এক জায়গা থেকে সামনে আসছে নানা অনিয়ম। শনিবার দমদম পার্কের (Dumdum Park) একটি জনপ্রিয় রেস্তরাঁয় (Resturant) আচমকা অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু গুরুতর ত্রুটি দেখতে পান আধিকারিকরা।

খাদ্য সুরক্ষা দফতর, দক্ষিণ দমদম পুরসভা এবং নাগেরবাজার থানার পুলিশের যৌথ দল শনিবার ওই রেস্তরাঁয় পরিদর্শনে যায়। রান্নাঘর ও স্টোররুম পরীক্ষা করতে গিয়ে ফ্রিজের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় দীর্ঘদিন ধরে রাখা পচা ও বাসি মাংস। শুধু তাই নয়, রান্নায় ব্যবহারের জন্য রাখা কয়েকটি মশলা ও খাদ্য উপকরণেও নিষিদ্ধ কৃত্রিম রঙ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

রেস্তরাঁর রান্নাঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আধিকারিকদের রিপোর্ট অনুযায়ী, রান্নার জায়গার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। আরও দেখা যায়, বাসন এবং হাঁড়ি ধোয়ার জায়গার একেবারে পাশেই রান্নার উনুন ও খাবার তৈরির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযানের সময় কয়েকটি রান্না করা খাবার, কাঁচা মাংস এবং মশলার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলি পরীক্ষার জন্য কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী রেস্তরাঁটির বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিলও হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই খাদ্য সুরক্ষা আইনের একাধিক ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে, গত তিন দিনে রাজ্যের মোট ২৩৩৭টি হোটেল, রেস্তরাঁ এবং খাবারের দোকানে অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় খাবারের গুণমান, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নানা সমস্যা ধরা পড়েছে। বিশেষ নজরে এসেছে পার্কস্ট্রিটের কয়েকটি নামী রেস্তরাঁও। সেখানে অভিযান চালিয়ে আধিকারিকরা পচা মাংস, মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া তেল, ছত্রাক ধরা আলু ও বেবিকর্নের মতো সামগ্রী পান। মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহৃত ছানার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খাবারের নমুনা পরীক্ষাতেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে সন্তোষজনক ফল পাওয়া যায়নি।

ট্যাংরার কয়েকটি রেস্তরাঁতেও অভিযান চালিয়ে অনিয়মের খোঁজ মিলেছে। অন্যদিকে, সোনারপুরের পরিচিত ‘বাবুর্চি’ রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কামালগাজির একটি মিষ্টির দোকান এবং ধনেখালির একটি আইসক্রিমের দোকান থেকেও উদ্ধার হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী। গড়িয়ার একটি বাঙালি রেস্তরাঁয়ও পাওয়া গিয়েছে বাসি খাবার। উৎসবের মরসুম সামনে। তার আগে শহর ও রাজ্যের একাধিক পরিচিত রেস্তরাঁয় এমন ছবি সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই খাবারের মান এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন