Aaj India Desk, কলকাতা : এর আগেও উঠেছিল একাধিক অভিযোগ। পানিহাটিতে রত্না দেবনাথের নাম করে টাকা চেয়ে অবৈধ নির্মাণ করার পর প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। এবার ব্যারাকপুরে অবৈধ বহুতল নির্মাণ নিয়ে কড়া অবস্থান নিলেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীও (Koustav Bagchi)। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে রাস্তা দখল করে অনুমোদনহীনভাবে বহুতল নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে সরব হয়েছেন তিনি। অভিযুক্ত নির্মাণের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানের ভূমিকা খতিয়ে দেখার কথাও জানিয়েছেন বিধায়ক। একইসঙ্গে তাঁর নাম করে অবৈধ নির্মাণের জন্য টাকা চাওয়া হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৌস্তভ।
রাস্তা দখল করে বহুতল নির্মাণের অভিযোগ
ব্যারাকপুরের একটি এলাকায় রাস্তা আটকে G+ বহুতল নির্মাণের অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিজেপি বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, নির্মাণের ক্ষেত্রে আশপাশে প্রয়োজনীয় জায়গা রাখা হয়নি এবং সরকারি রাস্তার অংশও দখল করা হয়েছে। কৌস্তভের দাবি, কীভাবে রাতারাতি এই ধরনের নির্মাণ সম্ভব হল, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তিনি পুরসভার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
প্রাক্তন চেয়ারম্যানকেও তদন্তের আওতায় আনার দাবি
বিধায়ক বলেন, কীভাবে ওই নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হল, সেটিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর বক্তব্য, তদন্ত হলে তৎকালীন পুর চেয়ারম্যানের ভূমিকা নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। কৌস্তভের (Koustav Bagchi) প্রশ্ন, কোনও আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল কি না।
১৬ থেকে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড নিয়েও অভিযোগ
ব্যারাকপুরের একাধিক এলাকায় অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন বিজেপি বিধায়ক (Koustav Bagchi)। তাঁর বক্তব্য, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ড-সহ ব্যারাকপুরের বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি একটি জমি দখলের অভিযোগও তোলেন কৌস্তভ। তাঁর দাবি, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং প্রশাসন ও দলীয় কর্মীদের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট জমিতে সীমানা প্রাচীর তৈরি করা হয়েছে।
‘আমার নাম করে টাকা চাইলে ধরুন’
অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে কৌস্তভ আরও বলেন, তাঁর নাম করে কেউ যদি অবৈধ নির্মাণের জন্য টাকা দাবি করেন, তাহলে তাঁকে আটক করে খবর দিতে হবে। বিধায়কের কথায়, “কেউ যদি আমার নাম করে বলে যে সেটিং হয়ে গিয়েছে বা কৌস্তভ দা টাকা চেয়েছে, যারা বলবে, তাদেরকে ধরুন।” এরপর তাঁদের কোনও মোটা গাছের গুঁড়ি বা লাইটপোস্টে বেঁধে তাঁকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ব্যারাকপুরে বেআইনি বহুতল নির্মাণ এবং জমি দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিধায়ক জানিয়েছেন, অভিযোগগুলির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা উচিত।
তবে রাজনৈতিক অভিযোগ ও আর্থিক লেনদেনের দাবিগুলি তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়। সংশ্লিষ্ট পুরসভা, প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বক্তব্যও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।


