32 C
Kolkata
Tuesday, September 15, 2026
spot_img

বিজেপিকে রুখতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের চেষ্টা! নন্দীগ্রাম ছাড়ার প্রস্তাব মমতার

Aaj India Desk,কলকাতা: ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বদলাচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণ। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে এবার সামনে এল জোটের সম্ভাবনা। সূত্রের খবর, বিজেপিকে আটকাতে কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন কালীঘাট তৃণমূলের নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে সেই প্রস্তাব কংগ্রেস গ্রহণ করেনি। উল্টে দুই আসনেই কংগ্রেসকে সমর্থনের দাবি জানিয়েছে প্রদেশ নেতৃত্ব।

কী প্রস্তাব দিয়েছিলেন মমতা?

সোমবার সন্ধ্যায় এআইসিসির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে যৌথভাবে লড়াই করার প্রস্তাব দেন তিনি। সূত্রের দাবি, নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে (Sanchita Pradhan Dey)-কে সরিয়ে ওই আসন কংগ্রেসের জন্য ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন তৃণমূল নেত্রী। বিনিময়ে রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীকে কংগ্রেস সমর্থন করুক এমন আবেদনও জানানো হয়।

পাল্টা শর্ত কংগ্রেসের

মমতার প্রস্তাবে অবশ্য সাড়া দেয়নি কংগ্রেস হাইকমান্ড। অতীতে তৃণমূলের সঙ্গে জোট ভেঙে বেরিয়ে আসা এবং তৃণমূল আমলে কংগ্রেস কর্মীদের উপর ‘অত্যাচার’-এর অভিযোগের বিষয়টি সামনে রেখেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে কংগ্রেস সূত্রে খবর। দলের নিচুতলার কর্মীদের আপত্তিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তৃণমূল যদি সত্যিই জোট চায়, তাহলে আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রেই কংগ্রেসকে সমর্থন করতে হবে। এরপর ভবিষ্যতে জোট নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

দুই শিবিরে তৃণমূল, বাড়ছে লড়াই

৬ অক্টোবরের ভোটে নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান এবং রেজিনগরে মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি। এদিন রেজিনগরে মনোনয়ন জমা দেন কাফি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শুভঙ্কর সরকার।

অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূল নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে। পাশাপাশি ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলও দুই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে। নন্দীগ্রামে এহতাশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউজ্জমান শেখ লড়ছেন। ফলে একই দলের দুই শিবিরের মধ্যেও প্রতীকের লড়াই তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে ঘিরে স্থানীয় স্তরে প্রশ্ন ওঠার খবর সামনে এসেছে। ২০১৪ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে তাঁর নাম জড়িয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রার্থী বাছাই নিয়ে দলের ভিতরে চাপ তৈরি হয়েছিল কি না, আর সেই কারণেই কি কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা এখন সেই প্রশ্নও ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।

সব মিলিয়ে, ভোটের আগেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। শেষ পর্যন্ত জোটের এই আলোচনা কোন দিকে যায়, নজর থাকবে সেদিকেই।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন