Aaj India Desk, কলকাতা: শ্রীরামপুরে মিছিল করতে চেয়েও এখনও পুলিশের অনুমতি পেল না তৃণমূল। আর সেই অনুমতি পেতেই এবার কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় কড়া নাড়ল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। সোমবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে এই মামলা ওঠে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছে বলে জানা গিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি হতে পারে।
জানা গিয়েছে, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার শ্রীরামপুরের মাহেশ থেকে কোর্ট চত্বর পর্যন্ত একটি প্রতিবাদ মিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই মিছিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) থাকার কথা। সেই কর্মসূচির জন্য স্থানীয় পুলিশের কাছে আগেই অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশের তরফে সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তৃণমূলের।
এরপরই আর দেরি না করে আদালতের দ্বারস্থ হয় দল। চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক এই মামলায় হাইকোর্টে যান। তাঁদের দাবি, নিয়ম মেনেই মিছিলের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিল প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, মিছিল করলে হাঁটাচলা হবে, শরীরের পক্ষেও ভালো। এরপর মমতাকে নিশানা করে একাধিক ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন তিনি। দিল্লিতে গিয়ে ধর্না দেওয়া থেকে শুরু করে ‘মঙ্গলগ্রহ অভিযান’-এর কথাও বলেন বিজেপি নেতা।
অন্যদিকে, মিছিলের আগে কয়েকজন তৃণমূল ঘনিষ্ঠকে গ্রেফতার করা নিয়েও অভিযোগ তুলেছে দল। শ্রীরামপুর ও রিষড়া থানার পুলিশ যৌথভাবে রিষড়া পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদ হাসানের ঘনিষ্ঠ চারজনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, মিছিলের আগে দলের নেতা-কর্মীদের ইচ্ছে করে ভুয়ো মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে এবং ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।
এখন সবার নজর হাইকোর্টের দিকে। আদালত কী নির্দেশ দেয়, তার উপরই নির্ভর করবে ১১ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুরের মিছিল আদৌ হবে কি না। আর মিছিল হলে সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)থাকতে পারবেন কি না, সেটাও স্পষ্ট হবে আদালতের নির্দেশের পর।


