Aaj lndia Desk,কালিম্পং: পুজো আসতে আর বেশি দেরি নেই। তার আগেই উত্তরবঙ্গের চা-বাগানগুলিতে কর্মরত প্রায় পাঁচ লক্ষ শ্রমিকের জন্য সুখবর। এবার ২০ শতাংশ হারে পুজো বোনাস দেওয়ার সুপারিশ করেছে রাজ্য সরকার। শ্রম দফতরের তরফে সোমবার এই সংক্রান্ত অ্যাডভাইজরি জারি করা হয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে শ্রমিকদের বোনাসের টাকা মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বেতনের সীমা নিয়েও মিলল স্পষ্ট নির্দেশ
শ্রম দফতরের নির্দেশিকায় বোনাস পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে । কোনও কর্মীর বেতন নির্ধারিত সীমার বেশি হওয়ার কারণে Payment of Bonus Act, 1965-এর আওতায় বোনাস পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হলে, নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বেতন ধরে তাঁর বোনাসের হিসাব করতে হবে।মাসিক বেতনভোগী কর্মীদের জন্য বোনাসের যে সিলিং বা সর্বোচ্চ সীমা রয়েছে, সেটিও গত বছরের মতোই রাখা হয়েছে।
বৈঠক ছাড়াই সরাসরি অ্যাডভাইজরি
প্রতি বছর পুজোর আগে চা-শ্রমিকদের বোনাস নিয়ে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলির মধ্যে আলোচনা হয়। কখনও দ্বিপাক্ষিক, কখনও ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করা হয়। এবার সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পথে না গিয়ে সরাসরি অ্যাডভাইজরি জারি করেছে শ্রম দফতর। ফলে দ্রুত বোনাস পাওয়ার আশা করছেন শ্রমিকদের একাংশ। তবে একই সঙ্গে গত বছরের অভিজ্ঞতাও তাঁদের চিন্তায় রাখছে।
গত বছরের ঘটনা নিয়ে এখনও ক্ষোভ
শ্রমিকদের একাংশের অভিযোগ, গত বছরও ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে বহু চা-বাগানে শ্রমিকরা সেই হারে টাকা পাননি। ফলে এ বছরও কাগজে-কলমে ২০ শতাংশ ঘোষণা হলেও শেষ পর্যন্ত হাতে কত টাকা আসবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
মালিকপক্ষের কপালে চিন্তার ভাঁজ
অন্যদিকে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চা-বাগান মালিকদের একাংশের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, চা-শিল্প এখন কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। নিলামে চায়ের দাম সবসময় আশানুরূপ মিলছে না। পাশাপাশি শ্রমিক মজুরি থেকে শুরু করে উৎপাদনের বিভিন্ন খরচও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়া কতটা বাস্তবসম্মত, সেই প্রশ্নই তুলছেন মালিকপক্ষের একাংশ।
রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর
বামপন্থী চিয়া কামান মজদুর ইউনিয়নের দার্জিলিং জেলার সাধারণ সম্পাদক গৌতম ঘোষের দাবি, শুধু নির্দেশিকা প্রকাশ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। গত বছরের মতো এবারও শ্রমিকরা পুরো ২০ শতাংশ বোনাস পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিইউসি রাজ্যের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। পাশাপাশি গত বছরের বকেয়া বোনাস দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা অবশ্য সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ বৈঠকের পথে না গিয়ে সরাসরি নির্দেশিকা প্রকাশ করায় এবার শ্রমিকদের স্বার্থই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।


