কলকাতা: ‘মাছ-মাংস খেলে পাষণ্ড!’ বাগেশ্বর বাবার (Bageshwar Baba) মন্তব্য ঘিরে এবার সরাসরি আইনি পদক্ষেপ। ভবানীপুর থানায় ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে FIR দায়ের করল কংগ্রেস। আর এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এল বিজেপির অন্দরেই ভিন্ন সুর। একদিকে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য নিয়ে প্রতিবাদ, অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাফ কথা, কে কী খাবেন, তা ঠিক করার অধিকার কারও নেই।
সম্প্রতি লিলুয়ায় দুর্গাপুজোর এক অনুষ্ঠানে বাঙালির আমিষ খাওয়ার তীব্র নিন্দা করেন বাগেশ্বর বাবা (Bageshwar Baba)। পুজোর ন’দিন সকলকে নিরামিষ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি দুর্গাপুজোর মণ্ডপের পিছনে আমিষ খাবার খাওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। এমনকী পুজোর দিনে আমিষভোজীদের ‘পাষণ্ড’ বলেও মন্তব্য করেন ধর্মগুরু।
এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তাঁর বক্তব্যের ভিডিও। শুরু হয় তীব্র প্রতিবাদ। এবার সেই বিতর্ক গড়াল থানায়। ভবানীপুর থানায় FIR দায়ের করে কংগ্রেসের অভিযোগ, বাগেশ্বর বাবার (Bageshwar Baba) মন্তব্য মানুষের খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতার উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং বাঙালি সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত করেছে। কংগ্রেসের প্রশ্ন, বাংলায় এসে বাঙালির খাবার নিয়ে এমন মন্তব্য করার পরেও প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ করা হল না কেন?
আর এখানেই আরও বড় প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। বাগেশ্বর বাবা যখন ওই মন্তব্য করেন, তখন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ একাধিক বিজেপি নেতা। তাহলে প্রকাশ্য মঞ্চে এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ করা হল না কেন? সেই প্রশ্নও তুলেছে তারা।
শুধু ভবানীপুরেই নয়, রাজ্যের আরও একাধিক জায়গায় বাগেশ্বর বাবার (Bageshwar Baba) বিরুদ্ধে FIR করা হবে বলেও জানিয়েছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, গোটা ঘটনায় বাঙালি কমিউনিটির ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে।
তবে বিতর্কের মধ্যেই সামনে এসেছে বিজেপির অন্দরেই অন্য সুর। বাগেশ্বর বাবার (Bageshwar Baba) বক্তব্য নিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কে কী খাবেন, সেটা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তাঁর বক্তব্য, বাঙালি অষ্টমীতে লুচি খায়, নবমীতে খাসির মাংস খায়, এই সংস্কৃতিই চলবে। কেউ কী খাবেন বা কী পরবেন, তা ঠিক করার অধিকার বাগেশ্বর বাবার নেই।
অর্থাৎ, বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য নিয়ে যখন রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে, তখন বিজেপির রাজ্য সভাপতির বক্তব্যেই কার্যত উঠে এল ভিন্ন বার্তা।
এর আগে একই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন দিলীপ ঘোষও। নিজের খাদ্যাভ্যাসের কথা তুলে ধরে তিনি জানিয়েছিলেন, মাছ বাংলায় সহজলভ্য এবং প্রোটিনের উৎস। পাশাপাশি দুর্গাপুজোর সময় সাত্ত্বিক পরিবেশ বজায় রাখার কথাও বলেন তিনি।
অন্যদিকে বাগেশ্বর বাবার (Bageshwar Baba) বক্তব্য ছিল আরও কড়া। দুর্গাপুজোয় মদ-মাংসের দোকান বন্ধ করার পক্ষে জনসমর্থন চেয়ে তিনি মানুষকে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে সমর্থন জানানোর আহ্বানও জানিয়েছিলেন। পুজোর মণ্ডপের পিছনে ‘নোংরা’ খাবার খাওয়ার সমালোচনা করে আমিষভোজীদের ‘পাষণ্ড’ বলেছিলেন তিনি।
এখন সেই মন্তব্যের জেরেই FIR। প্রশ্ন উঠছে, বাঙালির পাতে মাছ-মাংস থাকবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত কি আদৌ কেউ চাপিয়ে দিতে পারেন? নাকি খাবারের স্বাধীনতা একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়? FIR-এর পর এই বিতর্ক যে আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিতে চলেছে, তা কার্যত স্পষ্ট।


