Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি এবার আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সরকার। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chatterjee) স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধু কলেজে উপস্থিত থাকলেই হবে না, শিক্ষকদের নিয়মিত ক্লাসও নিতে হবে। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে এই বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (National Education Policy 2020) বাস্তবায়ন নিয়ে মঙ্গলবার আয়োজিত দুই দিনের কর্মশালায় এই বার্তা দেন শিক্ষামন্ত্রী। রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁদের অধীনস্থ কলেজগুলিতে শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস নিচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, ছাত্রছাত্রীদের আবার নিয়মিতভাবে ক্যাম্পাসমুখী করার আগে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি ঠিক করা দরকার।
এর পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এবার সরেজমিন পরিদর্শন শুরু করতে পারে উচ্চশিক্ষা দপ্তর। সেখানে প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো, নিয়মকানুন মেনে চলা হচ্ছে কি না এবং শিক্ষার পরিবেশ কেমন, সবকিছুই খতিয়ে দেখা হবে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে। পরিদর্শনে কোনো ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন মন্ত্রী।
শিক্ষকদের সংগঠন বা অধ্যাপক ফোরাম নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, কোনও সংগঠন যদি শিক্ষকদের নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে বাধা দেয়, তাহলে বিষয়টি সরাসরি জানাতে হবে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রেড ইউনিয়নের নামে শিক্ষার মানের সঙ্গে কোনও আপস করা যাবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
উপাচার্যদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভালো কর্মসংস্কৃতি তৈরি করতে উপাচার্যদেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। সব বিষয়ে বিকাশ ভবনের উপর নির্ভর না করে প্রতিষ্ঠানগুলির নিজস্ব নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়েছে।
এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল তথা পদাধিকারবলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য আরএন রবি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার পাশাপাশি পুরনো শিক্ষাব্যবস্থার কিছু কার্যকর দিক ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নন্দিনী সাহুও নতুন বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখেন এবং সেগুলি সংশোধনের আশ্বাস দেন।
সব মিলিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এবার তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে সরকার—শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা এবং মেধার ভিত্তিতে কাজ করা। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ বাস্তবায়নের পাশাপাশি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করাই এখন বড় লক্ষ্য। সরকারের আশা, এই পরিবর্তনগুলি বাস্তবায়িত হলে ধীরে ধীরে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের আস্থাও ফিরবে।


