কলকাতা: রাজ্যে পালাবদল হতেই রাজনীতিতে ভিন্ন ‘ওয়াশিং মেশিন’ দেখছে বঙ্গবাসী। সরাসরি শাসক শিবিরে নাম না লিখিয়ে নিজেদের ‘পৃথক’ বিদ্রোহী শিবির তৈরি করেছেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদরা। সেই দলেই ইতিমধ্যেই নাম লিখিয়েছেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল। এই আবহেই মঙ্গলবার মদন মিত্রের (Madan Mitra) স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে হাজিরার নোটিস দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
এরপরই গভীর রাতে আচমকাই এন্টালির প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহা (Swarnakamal Saha)-র বাড়িতে পৌঁছে যান মদন মিত্র (Madan Mitra)। যে স্বর্ণকমল সাহা এবং তাঁর পুত্র তথা এন্টালির বর্তমান বিধায়ক সন্দীপন সাহা বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ মুখ! মঅদনের এই ‘নৈশ সফর’ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। জল্পনা উঠছে, এবার কি তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালারফুল মদন’-ও ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিচ্ছেন?
এই নিয়ে বুধবার সকালে মদনকে (Madan Mitra) জোরদার কটাক্ষ করলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তিনি বলেন, “সন্দীপন সাহা বা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিলেও কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত থেকে বাঁচা যাবে না।” দিলীপ আরও বলেন, “আগে ইডি অফিসারদের সঙ্গে দেখা করুন, সন্দীপন সাহা তো বাঁচাতে পারবেন না। ইডি ক্লিনচিট দিলে তখন সম্ভাবনা আছে।”
শুধু তাই নয়, শমীক ভট্টাচার্যের ‘ভালো তৃণমূল’ তত্ত্ব নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন দিলীপ (Dilip Ghosh)। তাঁর কথায়, “কে ভাল তৃণমূল, কে খারাপ তৃণমূল এটা নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। আমাদের সার্টিফিকেট দেওয়ারও দরকার নেই। যারা অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িত, তাদের কাছে সমন যাবে, এটাই স্বাভাবিক। সে কোন পার্টিতে আছে, সেটা দেখা হবে না।” দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, “হাজার হাজার লোকের কাছে নোটিস গিয়েছে। বেআইনি কাজের তদন্ত হচ্ছে। এখানে বিজেপির কিছু করার নেই। যারা বেআইনি কাজ করেছে, তাদের তদন্তে সহযোগিতা করা উচিত।”


