কলকাতা: স্বপ্ন ছিল কাজ করবেন, নিজের ভবিষ্যৎ গড়বেন। সেই স্বপ্ন নিয়েই প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে ঝাড়খণ্ডের গিরিডি থেকে কলকাতায় এসেছিলেন ১৯ বছরের সন্দীপ পাসওয়ান। কিন্তু বুধবার ভোরের ভয়াবহ আগুন (New Market Hotel Fire) সব স্বপ্ন পুড়িয়ে দিল। মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিকা ইন হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে মৃত ৯ জনের মধ্যে এক জন হিসেবে সন্দীপের পরিচয় সামনে এসেছে।
পরিবারের দাবি, হোটেলেই কর্মরত ছিলেন সন্দীপ। বাড়ি থেকে দূরে কলকাতায় এসে কাজ করছিলেন তিনি। পরিবার হয়তো অপেক্ষা করছিল ছেলের পরিশ্রমে ভবিষ্যৎ একটু বদলাবে। কিন্তু সেই অপেক্ষা শেষ হল মর্মান্তিক মৃত্যুসংবাদে।
সন্দীপের কাকা সীতারাম পাসওয়ান এবং মন্টু পাসওয়ান তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেনি।
বুধবার রাত প্রায় ২টো নাগাদ ১৫, মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিকা ইন হোটেলে আগুন (New Market Hotel Fire) লাগে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নিউ মার্কেট থানার পুলিশ। দমকলের চারটি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর পাশাপাশি শুরু করে উদ্ধারকাজ। দীর্ঘ অভিযানে প্রায় ৬০ জনকে নিরাপদে বের করে আনা হয়।
কিন্তু সবাইকে বাঁচানো যায়নি। দুই মহিলা ও এক শিশুসহ মোট ৯ জনকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে নিভে গিয়েছে ৯টি প্রাণ। সেই তালিকায় ১৯ বছরের সন্দীপের নাম সামনে আসতেই আরও ভারী হয়ে উঠেছে শোকের আবহ।
যে তরুণ কয়েক মাস আগে কাজের আশায় বাড়ি ছেড়েছিলেন, তাঁর আর বাড়ি ফেরা হল না। পরিবারের কাছে কলকাতা আর কর্মস্থল নয়, এখন সেই শহরই হয়ে উঠেছে প্রিয়জন হারানোর স্মৃতি।
এই ঘটনায় শুধু আগুন লাগার (New Market Hotel Fire) কারণ নয়, হোটেলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, কোনও গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। তৃণমূল জমানার ‘গাফিলতির’-ও অভিযোগ তুলেছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পর! প্রশ্ন উঠছে, আরও একটু সতর্কতা ও নিরাপত্তা কি বাঁচাতে পারত এই ৯টি প্রাণ? উত্তর খুঁজবে তদন্ত। কিন্তু সন্দীপের পরিবারের কাছে সেই উত্তর কোনওদিনই ফিরিয়ে দিতে পারবে না তাঁদের ১৯ বছরের ছেলেকে।


