Aaj India Desk, কলকাতা : প্রায় ১৪ বছর ধরে চাপা পড়ে থাকা বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলায় (Barun Biswas Murder Case) এলো নতুন মোড়। সুতিয়া আন্দোলনের অন্যতম মুখ নন্দদুলাল দাসের এক লিখিত অভিযোগ ঘিরে আবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বহু বিতর্কিত এই মামলা। অভিযোগপত্রে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে নতুন এফআইআর দায়ের ও পুনর্তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।
কেন ফের আলোচনায় বরুণ বিশ্বাস হত্যাকান্ড?
উত্তর ২৪ পরগনার পুলিশ সুপারের কাছে জমা দেওয়া অভিযোগে নন্দদুলাল দাস দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ২০১২ সালের বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের (Barun Biswas Murder Case) নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসতে দেওয়া হয়নি। তাই নতুন করে এফআইআর নথিভুক্ত করে সম্পূর্ণ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।
শুধু তদন্তে বাধা নয়, নন্দদুলাল দাসের দাবি অনুযায়ী, বরুণ বিশ্বাস হত্যার বিচার চাওয়ায় তাঁকেও দীর্ঘদিন নানা ধরনের প্রশাসনিক হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে ভয় দেখাতে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং ‘মাওবাদী’ তকমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরই নড়েচড়ে বসলো CID?
সম্প্রতি বরুণ বিশ্বাসের পরিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে ন্যায়বিচারের দাবি জানায়। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরেই রাজ্য পুলিশের সিআইডি বরুণের গোবরডাঙার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এবং পুরনো নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে। এই ঘটনাকে ঘিরে মামলায় (Barun Biswas Murder Case) নতুন অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
আগামী ৩১ অগস্ট বনগাঁ আদালতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি রয়েছে। ওই দিন বরুণ বিশ্বাসের বাবা সাক্ষ্য দেবেন বলেও জানা গেছে। নন্দদুলাল দাসের অভিযোগ নতুন এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হবে কি না এবং পুনর্তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের জুলাই মাসে গোবরডাঙা স্টেশনের কাছে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে প্রাণ হারান তিনি। সুতিয়া এলাকায় ধারাবাহিক ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন বরুণ। তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে এসেছে, অপরাধের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণেই তাঁকে খুন হতে হয়। তবে এতদিন তদন্তে এই মামলার কোনো সুরাহা মেলেনি। এখন নজর ৩১ অগস্টের আদালত শুনানি এবং প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।


