29 C
Kolkata
Tuesday, August 18, 2026
spot_img

আইপ্যাক মামলায় ফের জট! সুপ্রিম কোর্টের প্রস্তাবে আপত্তি ইডির

Aaj India Desk, কলকাতা: আইপ্যাকের (I-PAC) দফতরে ইডির (ED) তল্লাশি এবং সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মামলায় তদন্তকারী সংস্থা নিয়ে ফের তৈরি হয়েছে জটিলতা। রাজ্য সরকারকেই তদন্তকারী সংস্থা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায় কি না, মঙ্গলবার সেই প্রশ্ন উঠেছিল সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। কিন্তু ইডি সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি।

বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আদালতের তরফে জানতে চাওয়া হয়, রাজ্য সরকারকেই কি সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া যায়—এই মামলার তদন্ত পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ করবে, নাকি অন্য কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা করবে। তবে ইডির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, তারা এই প্রস্তাবে সম্মত নয়।

ঘটনার শুরু গত ৮ জানুয়ারি। বেআইনি কয়লা পাচার মামলার তদন্তে কলকাতার দু’টি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসে যায় ইডির আধিকারিকরা। একইসঙ্গে লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডির অভিযোগ, তল্লাশি চলার সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে কয়েকটি নথি নিয়ে যান। যদিও পরে ইডি নিজেই জানায়, ওই অভিযানে কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়নি।

এই ঘটনাকে ঘিরে ইডি এবং তৃণমূল দু’পক্ষই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। ইডির অভিযোগ ছিল, সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তল্লাশিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং নথি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, ভোটের আগে আইপ্যাকের দফতরে ইডির অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই করা হয়েছিল। দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত তথ্য নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করে তৃণমূল।

এরপর মামলাটি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতেই তদন্তের দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতে বলেন, রাজ্যে এখন সরকার পরিবর্তন হয়েছে। তাই বর্তমান সরকার চাইলে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তদন্ত রাজ্য পুলিশ করবে নাকি অন্য কোনও সংস্থা করবে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে তদন্তকারী সংস্থা ঠিক করতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।

এই বক্তব্যের পর বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র জানান, তাহলে বিষয়টি রাজ্য সরকারের উপরেই ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। রাজ্য সরকারই ঠিক করুক তদন্ত পুলিশ করবে, নাকি সিবিআই। কিন্তু এখানেই আপত্তি তোলে ইডি। ইডির হয়ে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসবি রাজু বলেন, মামলার মূল আইনি প্রশ্নের নিষ্পত্তি করা দরকার। কোনও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে সেই মামলার তদন্ত রাজ্য পুলিশ করবে, নাকি সিবিআই—এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

সিবিআইয়ের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও আদালতে বক্তব্য রাখেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কারণে সিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে—এমন কোনও ধারণা যাতে তৈরি না হয়, তার জন্য সুপ্রিম কোর্টেরই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী তাঁর অবস্থানে অনড় থাকেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশনের মাধ্যমে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ চাওয়া আইনসঙ্গত নয়। এ বিষয়ে আগের একাধিক রায়ের কথাও আদালতে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর আরও বক্তব্য, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর চার মাস কেটে গিয়েছে। তদন্তের প্রয়োজন থাকলে বর্তমান সরকার এতদিনে নিজেই এফআইআর করতে পারত।

ইডি অবশ্য রাজ্য পুলিশের উপর আস্থার অভাবের কথা জানিয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এই মামলার তদন্ত স্থানীয় পুলিশের হাতে গেলে তারা সন্তুষ্ট নয়। তাই সিবিআইয়ের হাতে তদন্ত তুলে দেওয়াই উচিত। এখন সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পরই তদন্তকারী সংস্থা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২ সেপ্টেম্বর।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন