Aaj India Desk, কলকাতা: আগামী ৯ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে পালিত হবে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ (Har Ghar Tiranga) অভিযান। স্বাধীনতা দিবস (Independence Day)-কে সামনে রেখে দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া, জাতীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষকে নিজের বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে (Flag Hoisting) উৎসাহিত করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের নির্দেশ মেনে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে।
এবারের বিশেষ আকর্ষণ হল, ‘বন্দে মাতরম’ গানের ১৫০ বছর পূর্তি। সেই উপলক্ষে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানের সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ উদযাপনকেও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে অনলাইন প্রচার—সব ক্ষেত্রেই জাতীয় পতাকার পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ গানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়াও ‘Har Ghar Tiranga’ ওয়েবসাইটে নিজের জাতীয় পতাকার সঙ্গে তোলা ছবি আপলোড করলে সেই ছবিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘বন্দে মাতরম’-এর লিরিক্স যুক্ত হয়ে যাবে।
এই কর্মসূচি সফল করতে জেলা প্রশাসন, কলকাতা পুরসভা, অন্যান্য পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও ব্লক স্তরে তিরঙ্গা র্যালি, প্রভাতফেরি, সাইকেল ও ই-বাইক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি সরকারি দফতর, ঐতিহ্যবাহী ভবন, বাস টার্মিনাস, বাজার-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তিরঙ্গা থিমে বিশেষ আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকবে।
স্কুল-কলেজের দেওয়ালে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উক্তি ও ছবি আঁকারও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।এছাড়াও বিভিন্ন জেলা ও জনবহুল এলাকায় জাতীয় পতাকার ইতিহাস নিয়ে প্রদর্শনী, কুইজ প্রতিযোগিতা, অঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং তিরঙ্গা রাঙোলি তৈরির মতো নানা সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
অভিযান সফল করতে রাজ্যজুড়ে বিপুল সংখ্যক জাতীয় পতাকা বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি জেলা এবং কলকাতা পৌরসংস্থাকে ১.৫ লক্ষ করে জাতীয় পতাকা দেওয়া হবে। অন্যদিকে কালিম্পং জেলার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২০ হাজার পতাকা। কর্মসূচি পরিচালনার জন্য প্রতিটি জেলাকে ১ লক্ষ টাকা, মহকুমাগুলিকে ৫০ হাজার টাকা, প্রতিটি ব্লক ও পুরসভাকে ২০ হাজার টাকা এবং প্রতিটি পৌরনিগমকে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরে জেলার প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে আয়োজনের বিস্তারিত রিপোর্ট এবং ছবি নবান্নে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের আশা, সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণে এবারের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান আরও ব্যাপকভাবে সফল হবে।


