Aaj India Desk, কলকাতা : তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আমূল পরিবর্তন দেখা গিয়েছে রাজ্যে। এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা চত্বরে (West Bengal Assembly) সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকদের চলাচল নিয়েও একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। বিধানসভা সচিবালয়ের জারি করা ওই নোটিসে রিপোর্টার ও ফোটোগ্রাফারদের জন্য টানা হয়েছে লক্ষণরেখা। এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দল।
কী বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে ?
২৫ মে জারি হওয়া পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা (West Bengal Assembly) সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্পিকারের নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টার ও ফোটোগ্রাফারদের বিধানসভা ভবনের ভিতরে অবাধে ঘোরাফেরা না করে প্রেস কর্নারে থাকতে হবে।
এছাড়াও জানানো হয়েছে, প্রেস ব্রিফিং বা সাংবাদিক বৈঠক শুধুমাত্র স্পিকারের নির্ধারিত সময়ে প্রেস কর্নারেই করা যাবে। তবে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্মদিন উদযাপন বা বিশেষ অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা বিধানসভার নিচতলার লবিতে যেতে পারবেন।
গণতন্ত্র নিয়ে তোপ তৃনমূলের
এই সরকারি নির্দেশিকার বিরোধিতা করে তৃণমূল কংগ্রেস সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, সাংবাদিকদের বিধানসভার (West Bengal Assembly) মূল ভবনে প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে সরকার নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করছে।
দলের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ এবং সাংবাদিকদের উপর এই ধরনের বিধিনিষেধ গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সাংবাদিক সম্মেলন না করার প্রসঙ্গ টেনে তৃনমূল কটাক্ষ করে বলে, রাজ্য সরকারও কেন্দ্রের পথে হাঁটছে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সাংবাদিক মহলের একাংশের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিধানসভার নতুন নির্দেশিকা ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সাংবাদিকদের সরাসরি যোগাযোগ নিয়ে। এতদিন বিধানসভার করিডর বা লবিতে ঘুরে সাংবাদিকরা মন্ত্রী, বিধায়ক বা রাজনৈতিক নেতাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নিতে পারতেন। কিন্তু সাংবাদিকদের নির্দিষ্ট “প্রেস কর্নার”-এ সীমাবদ্ধ রাখার ফলে সেই সুযোগ কমে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার পরিমাণও কমে যাবে। জনগণের প্রতিনিধিরা কি করছেন সেই বার্তা স্বচ্ছভাবে জনগণের কাছে আর পৌঁছাবে কিনা তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ফলে একটি বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে একই সাথে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা, গণতন্ত্র ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা এই তিনটি বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।


