33.5 C
Kolkata
Tuesday, July 14, 2026
spot_img

রেলের বেদখল জমিতে গড়বে ৪২ টি মোদী স্টেডিয়াম? পাঁচ বছরের হিসাব দেখে চমকে গেলেন বিশেষজ্ঞরা!

Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : রেলের জমিতে যদি স্টেডিয়াম গড়া যেত, তাহলে এক-দু’টি নয়, তৈরি হতো ৪২টি বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সমান পরিকাঠামো। শুনতে অবাক লাগলেও, ঠিক এতটাই জমি এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ দখলের আওতায়। RTI-তে প্রকাশিত রেল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের শেষে (মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত) ভারতীয় রেলের ১,০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি অবৈধ দখলের আওতায় রয়েছে। গত পাঁচ বছরে এই বেদখল জমির পরিমাণ প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে উদ্ধার করা গেছে মাত্র ৯৮.০২ হেক্টর জমি, যা মোট বেদখল জমির তুলনায় খুবই কম। (Rail Land Encroachment)

পাঁচ বছরের হিসাব কী বলছে?

  • ২০২০-২১ অর্থবর্ষ: রেলের ৮১০.৩১ হেক্টর জমি বেদখল ছিল।
  • ২০২১-২২ অর্থবর্ষ: বেদখল জমি সামান্য কমে ৭৮২.৮১ হেক্টর।
  • ২০২২-২৩ অর্থবর্ষ: আবার বৃদ্ধি পেয়ে বেদখল জমির পরিমাণ ৮০০ হেক্টরের গণ্ডি ছাড়ায়।
  • ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ: এক বছরে প্রায় ২৬৮ হেক্টর নতুন জমি বেদখল হয়। মোট পরিমাণ পৌঁছায় ১,০৭৮.৫৫ হেক্টরে।
  • ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ (মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত): বেদখল জমি সামান্য কমে দাঁড়ায় ১,০৬৮.৫৪ হেক্টর।

সংসদে রেল মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত ভারতীয় রেলের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৪.৯৯ লক্ষ হেক্টর। সেই হিসেবে বেদখল জমি (Rail Land Encroachment) মোট সম্পত্তির মাত্র ০.২১ শতাংশ। তবে আয়তনের বিচারে এই জমি অত্যন্ত বড়। প্রায় ২৫.৫ হেক্টর আয়তনের গুজরাতের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এই জমিতে প্রায় ৪২টি এমন স্টেডিয়াম নির্মাণ করা সম্ভব।

উদ্ধারের গতি কেন ধীর?

সরকারি তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে দেশজুড়ে মাত্র ৯৮.০২ হেক্টর রেল জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের বসতি, আইনি জটিলতা, স্থানীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং সামাজিক বাস্তবতার কারণে বেদখল জমি উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। ফলে নতুন জমি দখলের তুলনায় উদ্ধার অভিযান অনেক ধীরগতিতে এগোচ্ছে। (Rail Land Encroachment)

উল্লেখ্য, রেল মন্ত্রকের দাবি, দখলমুক্ত জমি ভবিষ্যতে নতুন রেললাইন, মালবাহী টার্মিনাল, যাত্রী টার্মিনাল, ওয়ার্কশপ এবং অন্যান্য রেল পরিকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার করা হবে। যেসব জমির তাৎক্ষণিক প্রয়োজন নেই, সেগুলি Rail Land Development Authority (RLDA)-র মাধ্যমে বাণিজ্যিক উন্নয়নের জন্য হস্তান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রেলের নিজস্ব জমি অবৈধ দখলের আওতায় থাকায় ভবিষ্যতের বহু প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, রাজ্যভিত্তিক কেন্দ্রীয় তথ্যের অভাব সমস্যার প্রকৃত পরিসর মূল্যায়নকেও কঠিন করে তুলছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন