Aaj India Desk , কলকাতা : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবিতে আগুন লাগানোর অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার এক যুবককে দ্রুত গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। অথচ সেই একই চিত্র ফের দেখা গেলেও এবার নীরব পুলিশ প্রশাসন। গতকাল ধর্মতলায় বিজেপির ‘তিরঙ্গা যাত্রায়’ প্রকাশ্যে বাম সংগঠনের লাল পতাকায় আগুন ধরানোর (CPIM Flag Burn) অভিযোগ ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক দাবি সামনে আসে। ঘটনার জেরে কার্যত উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
গতকাল সাংবাদিকদের উপর অত্যাচারের ও হয়রানির বিরুদ্ধে ধর্মতলায় বিজেপির পক্ষ থেকে একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়। সেই মিছিলেই প্রকাশ্যে বাম সংগঠনের লাল পতাকায় আগুন ধরানো হয়। পাশাপাশি বাম যুব সংগঠনের পোস্টার বানিয়ে তাতে লাথিও মারা হয়। ঘটনার ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এরপরেই প্রতিবাদে সোচ্চার হন বাম সমর্থকরা। (CPIM Flag Burn)
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই ছাত্র সংগঠনগুলির নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবিতে আগুন লাগিয়ে সেই আগুন থেকে সিগারেট ধরানোর অভিযোগ ওঠে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুর বাসিন্দা সৌমিক চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার ছবি ভাইরাল হওয়ার পর বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে বারাসত থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে পেশ করে। সেই মামলার তদন্ত এখনও চলছে। (CPIM Flag Burn)
এই ঘটনা উল্লেখ করে একই ঘটনায় পুলিশের ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার কারণ কি , তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক মহল। বিরোধী দলের বক্তব্য, যদি একটি ঘটনায় দ্রুত অভিযোগ নিয়ে তদন্ত ও গ্রেপ্তার সম্ভব হয়, তবে অন্য ঘটনায় অভিযোগ ও প্রমাণ থাকলে তার ক্ষেত্রেও একইভাবে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবে এই প্রশ্নগুলির বিষয়ে এখনও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা মেলেনি।
গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা বা কোনও নেতার ছবি প্রকাশ্যে পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানোয় রাজ্যের এই ঘটনাগুলি নৈতিকভাবে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এই ধরনের প্রতীকী পদক্ষেপ রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং পারস্পরিক বিদ্বেষকেও উসকে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ওয়াকিবহাল মহল।


