কলকাতা: বিদ্রোহীদের রোষানলে পুড়ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) তৃণমূল কংগ্রেস। এতদিন বিজেপি-বিরোধী মোড়ক নিয়ে থাকলেও সোমবার সেই মুখোশ খুলে এনডিএ-এর শরিক হতে চান বলে চিঠি দিয়েছেন দলের ২০ জন বিধায়ক। লোকসভায় জোড়াফুল এখন কার্যত দু-টুকরো! তৃণমূলের এই বিপর্যয়ের কান্ডারি ঋতব্রত হলেও দীর্ঘদিনের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের (Kakoli Ghosh Dastidar) হাতেই ছিল আসল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন অনেকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিজের মেন্টর, পথ প্রদর্শক বলে মনে করেন কাকলি। তাহলে কেন পথ পরিবর্তন করলেন? তাঁর কথায়, “এখন এটা বলা অর্থহীন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় নেই বলেই আমি দল ছেড়েছি। বিষয়টা মোটেও তেমন নয়। দলত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা। তিনি (Kakoli Ghosh Dastidar) বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর “পথপ্রদর্শক, মেন্টর এবং নেত্রী” এবং গত চার দশক ধরে তিনি তাঁর সঙ্গেই ছিলেন। তাঁর দাবি, মমতা যখন ক্ষমতায় ছিলেন না, তখনও তিনি দল ছেড়ে যাননি। বরং ২০০৯ সালের আগে পাঁচটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও দল এবং নেত্রীর পাশেই থেকেছেন।
তবে তিনি দাবি করেন, একসময় তৃণমূলের একটি স্পষ্ট জনমুখী নীতি ছিল এবং দল গরিব মানুষের স্বার্থে কাজ করত। কিন্তু গত ৩-৪ বছরে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, উন্নয়নের কাজ প্রত্যাশামতো হয়নি এবং একাধিক আর্থিক অনিয়ম সামনে এসেছে, যা বর্তমানে প্রমাণিতও হচ্ছে। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে রাজ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চলচ্চিত্র শিল্প-সহ একাধিক ক্ষেত্র কার্যত ভেঙে পড়েছে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সন্তোষজনক ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। কাকলির (Kakoli Ghosh Dastidar) কথায়, “সরকারি আধিকারিকদের উপর নির্দিষ্ট কিছু নেতৃত্বের ইচ্ছেমতো কাজ করার জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এটা কোনও রাজ্যের উন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নয়।”
তাঁর দাবি, মানুষের রায়ই প্রমাণ করে দিয়েছে যে তিনি এতদিন যা বলে আসছিলেন, তা ভুল ছিল না। “আমরা রাজ্যের উন্নয়ন, জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য কাজ করতে চাই। সেই কারণেই আলাদাভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি,” বলেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ লোকসভায় তৃণমূলের মোট সাংসদ সংখ্যা ২৮। সূত্রের খবর, তার মধ্যে ২০ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী ব্লকে যোগ দিয়েছেন। সেই তালিকায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar), প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিক, শর্মিলা সরকার, অসিত মাল, অরূপ চক্রবর্তী, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেব, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া, সাজদা আহমেদ ও খলিলুর রহমানের মতো একাধিক পরিচিত নাম রয়েছে।


