30.2 C
Kolkata
Thursday, June 11, 2026
spot_img

ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে পকেটস্থ টিকিটের দাম! প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের FIR!

Aaj India Desk, কলকাতা: বাংলার দুর্গাপুজোকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার স্বপ্নকে ঘিরেই শুরু হয়েছিল উদ্যোগ। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর ইনট্যাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক স্তরে এর গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। ইউনেস্কোর সেই স্বীকৃতিকে সামনে রেখে আয়োজন হয়েছিল বিশেষ প্রিভিউ শো ও সীমিত প্রবেশাধিকারভিত্তিক দর্শনের ব্যবস্থা। কিন্তু সেই আয়োজন ঘিরেই এবার উঠল প্রতারণা ও বেআইনি বাণিজ্যের অভিযোগ। ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে টিকিট বিক্রির অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)-সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে মেঘদূত ফাউন্ডেশন। এর ফলে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এলো দুর্গাপুজোর আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং।

কী অভিযোগ তোলা হয়েছে ?

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি (MassArt)-এর মাধ্যমে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং ‘প্রিভিলেজড প্রি-পুজো এন্ট্রি’-র জন্য টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি টিকিটের মূল্য ছিল প্রায় ৪ হাজার টাকা।

অভিযোগকারীদের দাবি, এই কর্মসূচিকে ইউনেস্কোর সঙ্গে যুক্ত বলে প্রচার করা হলেও ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে এমন কোনও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বা অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সেই সংক্রান্ত ই-মেল ও নথিও অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি।

কলকাতা পুলিশ এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে জমা দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিক যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কারা রয়েছেন অভিযোগের তালিকায়?

অভিযোগে নাম রয়েছে প্রাক্তন পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen), তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন, ধ্রুবজ্যোতি বসু (শুভ), সায়ন্তন মৈত্র এবং রাজন চট্টোপাধ্যায়ের।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে পুজো মণ্ডপে সাধারণ দর্শকদের প্রবেশে অসুবিধার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে।

তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মাস আর্ট-এর সঙ্গে যুক্ত ধ্রুবজ্যোতি বসু। তাঁর দাবি, সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি তাঁদের কাছে রয়েছে। ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা বিভিন্ন প্রিভিউ শো-তে উপস্থিত ছিলেন এবং এই উদ্যোগের মাধ্যমে পুজো কমিটি ও শিল্পীদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, নতুন অভিযোগ সামনে আসার পর ইন্দ্রনীল সেনকে (Indranil Sen) ঘিরে অতীতের একাধিক বিতর্কও ফের আলোচনায় উঠে এসেছে। চলতি বছরই কয়েকজন শিল্পী সরকারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সাম্মানিকের অর্থ থেকে কাটমানি নেওয়া, হেনস্থা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগ তুলেছিলেন। যদিও সেই অভিযোগগুলিও ইন্দ্রনীল সেন অস্বীকার করেছিলেন।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন