কলকাতা: লোকসভায় একযোগে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পেশ করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। যার মধ্যে রয়েছে, সংবিধান সংশোধনী বিল, ডিলিমিটেশন (Delimitation) কমিশন সংক্রান্ত আইন এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংক্রান্ত আইন। এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলি কার্যকর হলে দেশের সংসদীয় ও বিধানসভা কাঠামোয় বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হবে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন বাড়িয়ে ৮৫০ পর্যন্ত করা হতে পারে।
একইসঙ্গে প্রতিটি রাজ্যে জনসংখ্যার ভিত্তিতে নতুন করে ডিলিমিটেশন (Delimitation) বা আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। এর ফলে একাধিক রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। এই প্রক্রিয়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে রাজ্য বিধানসভাগুলিতেও। প্রস্তাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা আসন সংখ্যা ২৯৪ থেকে বেড়ে প্রায় ৪৪১-এ পৌঁছতে পারে, অর্থাৎ, অর্থাৎ প্রায় ১৪৭টি আসন বৃদ্ধি। এর ফলে আগামী কয়েক দশকের নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
প্রস্তাব কার্যকর হলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন বর্তমান আসন কাঠামোয় শেষ ভোট হতে পারে। এরপর ২০৩১ সালের নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নতুন ডিলিমিটেশন (Delimitation) কাঠামো ও পরিবর্তিত আসন বিন্যাসের ভিত্তিতে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত আসন বৃদ্ধি ও ডিলিমিটেশন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করা। কেন্দ্রের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এই সংরক্ষণ বাস্তবায়ন করা। এর জন্য প্রয়োজন আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন করে সীমানা নির্ধারণ, যা সম্পূর্ণ করতে ডিলিমিটেশন (Delimitation) কমিশনের কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।
সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, শেষবার ১৯৭১ সালে লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছিল, তখন দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬০ কোটি। বর্তমানে তা ১৪০ কোটিরও বেশি। ফলে একজন সাংসদের উপর গড়ে ২৫–২৭ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিত্বের চাপ পড়ছে, যা গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ডিলিমিটেশন নিয়ে বিতর্ক
তবে এই প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্য এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের অভিযোগ, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বৃদ্ধি হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব শতাংশের হিসেবে কমে যাবে। তাঁর মতে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলিকে এভাবে ‘শাস্তি’ দেওয়া উচিত নয়।
এই অবস্থানকে সমর্থন করেছেন কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম। তাঁর দাবি, বর্তমান লোকসভায় দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব যেখানে ২৪.৩ শতাংশ, প্রস্তাব কার্যকর হলে তা কমে প্রায় ২০.৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, আসন বৃদ্ধি ও ডিলিমিটেশনকে (Delimitation) কেন্দ্র করে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচন তাই শুধু আসন সংখ্যার বদল নয়, বরং রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে এক বড় রদবদলের দিকেও ইঙ্গিত করছে।


