কলকাতা: তারাতলা গুদাম ধসে (Taratala Tragedy) লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। সেইসঙ্গে বিল্ডিং-এর অনুমোদন, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই আবহে কলকাতা সহ ৭ জায়গায় ৩১ জুলাই পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার রাজ্যজুড়ে বেআইনি ও ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, আগামী এক মাস কলকাতা-সহ মোট ১২টি পুর এলাকায় সমস্ত বেসরকারি বাণিজ্যিক নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বহুতলগুলির নিরাপত্তা ও নির্মাণের গুণগত মান খতিয়ে দেখবে বিশেষ অডিট কমিটি।
শুক্রবার পিডব্লুডি টেন্টে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা পুর এলাকা ছাড়াও বিধাননগর, রাজারহাট, নিউটাউন, পূজালি, বারুইপুর, মহেশতলা, রাজপুর-সোনারপুর, দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর এবং বালি—এই ১২টি পুর এলাকায় আপাতত নতুন বাণিজ্যিক নির্মাণের কাজ বন্ধ থাকবে। সরকার ইতিমধ্যেই ১১ সদস্যের একটি বিশেষ অডিট কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি জি+৫ বা তার বেশি উচ্চতার নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক বহুতলের কাঠামোগত নিরাপত্তা, নির্মাণের গুণমান এবং অনুমোদিত নকশা মেনে কাজ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে।
মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) জানান, অডিটে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট নির্মাণের অনুমোদন বাতিল করে দেওয়া হবে। তবে ছোটখাটো ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে নির্মাণকারী সংস্থাকে। অডিট কমিটির ছাড়পত্র পাওয়ার পরই ফের নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, অডিটের কাজ আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ১ আগস্ট থেকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলিতে ফের নির্মাণকাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে।
তারাতলার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার (Taratala Tragedy) পর রাজ্যের নির্মাণ শিল্পে এটি অন্যতম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। সরকারের দাবি, ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও নির্মাণ বিপর্যয়ে প্রাণহানি না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ অডিট এবং সাময়িক নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


