কলকাতা: ১৯ ও ২০ আগস্টের ঘটনাকে ঘিরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) তদন্ত প্রক্রিয়ায় এবার বড়সড় মোড়। প্রাক্তন উপাচার্য শুভশঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে যে তদন্ত কমিটি তৈরি হয়েছিল, সেটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, তদন্ত কমিটিতে থাকতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন প্রাক্তন উপাচার্য। এরপরই কমিটি ভেঙে নতুন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এবার কি তবে তদন্তের ভার উঠতে চলেছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির হাতে? বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) সূত্রে খবর, হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে সামনে রেখে বিচারবিভাগীয় ধাঁচে তদন্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলেও খবর।
এই ধরনের তদন্তের দাবি অবশ্য আগেই উঠেছিল। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের তরফে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে ঘটনার তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল।
আজ, অর্থাৎ সোমবার দুপুর ৩টের বৈঠকে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই তদন্তের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) কর্তৃপক্ষের। সূত্রের দাবি, উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই ক্যাম্পাসে ঢুকে কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু ১৯ আগস্ট রাতে ঠিক কী ঘটেছিল? সেই প্রশ্নের উত্তর নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি কৌতূহল।
প্রাক্তন উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিন দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। তিনি জানান, মেইন ক্যাম্পাসে থাকায় তাঁকে ডাকা হয়েছিল। তাঁর দাবি, তিনি গেট খুলতে বলেননি এবং পুলিশ এসে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিল।
ঘটনার সূত্রপাত হয় এসএফআই ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা একটি বৈঠককে কেন্দ্র করে। সেই বৈঠলের বিরোধিতা করে এবিভিপি। অভিযোগ, প্রতিবাদ ঘিরেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সংঘর্ষে এবিভিপির কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
এবিভিপির অভিযোগ, নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকা অবস্থায় কীভাবে জিবি মিটিং ডাকা হল, তা নিয়েই তাঁদের আপত্তি ছিল। পাল্টা বাম ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ, এবিভিপিই হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে। অর্থাৎ একই ঘটনার দুই রকম দাবি! আর সেই দাবির মাঝেই এবার বদলে যাচ্ছে তদন্তের কাঠামো।
পুরনো তদন্ত কমিটি ভেঙে নতুন করে বিচারবিভাগীয় তদন্তের ভাবনা কেন? ১৯ ও ২০ আগস্টের ঘটনায় আদৌ কী ঘটেছিল? আর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির হাতে তদন্ত গেলে কি বেরিয়ে আসবে সেই রাতের আসল ছবি? উত্তর এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।


