কলকাতা: ফুটপাতের শিশুর মুখের দুধ ছিনিয়ে নিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)! সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিরোধী মহল, বর্তমানে এই সমালোচনার ঝড়ে তোলপাড়! যদিও অনেকেই আবার মন্ত্রীর সপক্ষেই যুক্তি দিচ্ছেন। তবে সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়ে নিজের অবস্থানেই অনড় অগ্নিমিত্রা। রাজ্যের পালাবদলের পর শহরজুড়ে ফুটপাত দখলদারদের বিরুদ্ধে ‘অগ্নিশর্মা’ হয়ে উঠেছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। আমজনতার হাঁটাচলার ফুটপাত থেকে দখলদার দোকানী হোক বা ফুটপাত বাসীদের সরাতে তৎপর তিনি।
এই আবহেই সম্প্রতি পার্ক স্ট্রিটের একটি ফুটপাতে এক মহিলাকে স্টোভ জ্বালিয়ে দুধ গরম করতে দেখে রংণদেহী রূপ ধারণ করেন অগ্নিমিত্রা (Agnimitra Paul)। মহিলাকে ধমক দিয়ে তিনি বলেন, “ফুটপাতে বাচ্চার দুধ গরম হবে! মানুষের হাঁটাচলার পথ আটকে? এগুলো সব সরান”! পাশেই দেখা যায় ফুটপাতে এক শিশু হামাগুড়ি দিচ্ছে। ওই মহিলা মন্ত্রীকে বলেন যে তিনি বাচ্চার দুধ গরম করছেন। কিন্তু মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন তাদের ফুটপাত ছাড়তে হবে। মহিলার কিছু জিনিসপত্রও সরিয়ে দিতে দেখা যায় তাঁকে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই সেখানে পৌঁছে যান বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ফুটপাতবাসী ওই মহিলার সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, ওদের মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই নেই। দীর্ঘ সময় ধরে ফুটপাতেই বসবাস তাদের। এরপর এক্সে দীর্ঘ পোস্টে অগ্নিমিত্রাকে (Agnimitra Paul) বেঁধেন কুণাল! ওই কর্মকাণ্ডকে ‘অমানবিক’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
এই বিতর্কের মাঝেই বিরোধীদের একহাত নিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা “রাজনীতির রুটি সেঁকছে”! অসংবেদনশীল আচরণের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে অগ্নিমিত্রা (Agnimitra Paul) বলেন, “৬ মাসের শিশু তো আর এক গামলা দুধ খাবে না! এরকম ব্যস্ত রাস্তার ধারে শিশু হামাগুড়ি দিচ্ছে, স্টোভে দুধ জাল দেওয়া হচ্ছে! বড় দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে?” তাঁর মতে, ধুলো-ময়লার মধ্যে খোলা আকাশের নীচে শিশুর জন্য দুধ গরম করাও স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়।
এখানেই থামেননি তিনি। প্রশ্ন তোলেন, “ওদের বাড়ি তো ধাপায়। তা হলে ধাপা থেকে পার্ক স্ট্রিটে দুধ গরম করতে আসতে হবে কেন?” পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর বক্তব্য, ফুটপাত পথচারীদের জন্য, দখল করে রান্নাবান্না বা অন্য কাজ করা উচিত নয়। অগ্নিমিত্রার (Agnimitra Paul) আরও মন্তব্য, “দুধ কেন, খিচুড়ি বা পকোরা হলেও বলব, ফুটপাতে এটা করবেন না। ভাল কাজ করতে গেলেই বিরোধীরা বাধা দেয়। পরে দুর্ঘটনা হলে তারাই আবার সরকারের সমালোচনা করবে।”
তবে তাঁর এই সাফাই ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, মানবিকতার প্রশ্ন এড়িয়ে ফুটপাতের প্রসঙ্গ তুলে মূল ইস্যু থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে অগ্নিমিত্রা দাবি করেছেন, তাঁর বক্তব্য শুধুই জননিরাপত্তা ও আইন মেনেই করা হয়েছে।


