Aaj lndia Desk,কলকাতা: রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষক বণ্টনে ভারসাম্য আনতে সারপ্লাস ট্রান্সফার প্রক্রিয়ায় নতুন নির্দেশিকা জারি করল স্কুল শিক্ষা দপ্তর। ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত (PTR) বজায় রেখে যেসব স্কুলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শিক্ষক রয়েছেন, সেখান থেকে শিক্ষক ঘাটতি থাকা বিদ্যালয়ে বদলি করার প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উদ্বৃত্ত শিক্ষক চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে আগে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীদের বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, প্রবীণ শিক্ষকরা চাইলে তাঁদের বর্তমান স্কুলে থাকার সুযোগ পাবেন। তবে কোনও প্রবীণ শিক্ষক স্বেচ্ছায় বদলি হতে চাইলে তিনি আবেদন করতে পারবেন।
মাধ্যমিক স্তরের ক্ষেত্রেও বিশেষ কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও বিষয়ে যদি একটি মাত্র অনুমোদিত শিক্ষক থাকেন, তাহলে তাঁকে বদলি না করার চেষ্টা করা হবে যাতে ওই বিষয়ে পাঠদানে সমস্যা না হয়। তবে একই বিষয়ে একাধিক শিক্ষক থাকলে তুলনামূলক কম বয়সী শিক্ষককে আগে বদলির তালিকায় রাখা হবে। ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা এই সারপ্লাস ট্রান্সফারের আওতার বাইরে থাকবেন।
শিক্ষকদের সুবিধার জন্য বদলির সময় নতুন কর্মস্থল হিসেবে তিনটি স্কুল পছন্দ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু সেই তিনটি বিদ্যালয়ে শূন্যপদ না থাকলে সংশ্লিষ্ট জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (DI) অথবা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের (DPSC) চেয়ারম্যান যে বিদ্যালয়ে পোস্টিং দেবেন, সেটিকেই চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হবে। এছাড়া, যেসব আপগ্রেডেড বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষক পদ নেই, সেখানকার উদ্বৃত্ত শিক্ষকদেরও অন্যত্র বদলির সুযোগ দেওয়া হবে।
যেসব বিদ্যালয়ে কোনও পড়ুয়া নেই এবং সেখান থেকে সমস্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হবে, সেই স্কুলগুলির প্রশাসনিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট স্কুল পরিদর্শক (SI)-এর উপর ন্যস্ত থাকবে।
রাইট টু এডুকেশন (RTE) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতি ৩০ জন পড়ুয়ার জন্য অন্তত একজন শিক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক। সেই মানদণ্ড কার্যকর করতেই রাজ্য সরকার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি শিক্ষক থাকা স্কুল থেকে শিক্ষক-স্বল্প বিদ্যালয়ে দ্রুত বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষা দপ্তরের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হবে এবং পঠনপাঠনের মানও আরও উন্নত হবে।


